বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে তার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ফিরেছেন। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন এবং নির্দিষ্ট সময়ে তার বাসভবনে নিরাপদে পৌঁছান। তার এই প্রত্যাবর্তনের খবর নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

গত ১১ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে বেগম খালেদা জিয়াকে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন এবং তার বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করছিলেন। দীর্ঘ সাত দিন হাসপাতালে অবস্থানের পর চিকিৎসকদের একটি মেডিকেল বোর্ড তার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে তাকে বাসায় ফেরার অনুমতি প্রদান করে।

হাসপাতাল থেকে বাসভবনে ফেরা

বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে তার বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। হাসপাতালের প্রধান ফটক থেকে তার গাড়িবহর গুলশানের দিকে যাত্রা শুরু করে। এই সময় হাসপাতালের বাইরে দলের কিছু নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন, যারা তার সুস্থতা কামনা করে স্লোগান দেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে তার গাড়িবহর এগিয়ে যায়।

এরপর সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে বেগম খালেদা জিয়া তার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় পৌঁছান। বাসভবনের সামনেও দলের নেতাকর্মীরা এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বেগম জিয়াকে স্বাগত জানান এবং তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। বাসভবনে প্রবেশের পর তিনি তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও চিকিৎসা

বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এর মধ্যে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি ও লিভারের সমস্যা অন্যতম। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং তার স্বাস্থ্যের সার্বিক উন্নতি নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন।

হাসপাতালে থাকাকালীন সময়ে তার শারীরিক অবস্থার নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছিল। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দল এবং এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সমন্বিতভাবে তার চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এই সময়ে তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করা হয় এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসার পরিকল্পনা করা হয়।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বেগম জিয়া এখন বাসায় তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকবেন। তার শারীরিক অবস্থার উপর নিয়মিত নজর রাখা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তার সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা।

বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে তার দল এবং দেশের রাজনৈতিক মহলে সবসময়ই আলোচনা থাকে। তার এই হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরা দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি এনেছে। তবে তার শারীরিক অবস্থা এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয় বলে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে তার বাসভবনে বিশ্রাম নিচ্ছেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলছেন।