ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন থানায় আগুন ও হামলার ঘটনায় লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি বড় অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ সদরদপ্তর। পুলিশ জানায়, লুট হওয়া মোট ৩ হাজার ৮৭২টি বিভিন্ন রকমের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও উদ্ধার সামগ্রীর মধ্যেই রয়েছে।
পুলিশের তত্ত্বাবধানে উদ্ধার কাজ ও অধিকারিকের তথ্য
শনিবার (৩১ আগস্ট) রাতে পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর এ তথ্য জানান। তিনি পুলিশের তদারকিতে সারাদেশ থেকে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। পুলিশের তথ্যমতে, থানা ও ফাঁড়িতে হামলার পর বিভিন্ন দুর্বৃত্ত লুটপাট করে অস্ত্র ও গোলাবারুদ বহন ও সংরক্ষণ করে নিয়েছিল।
উদ্ধার করা সামগ্রীর বিবরণ
পুলিশ সদরদপ্তরের দেওয়া সংখ্যাগুলো অনুসারে উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য তালিকা তুলে ধরা হলো।
- অস্ত্র: ৩ হাজার ৮৭২টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
- গোলাবারুদ: ২ লাখ ৮৬ হাজার ২১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
- টিয়ার শেল: ২২ হাজার ২০১টি টিয়ার শেল উদ্ধার করা হয়েছে।
- সাউন্ড গ্রেনেড: ২ হাজার ১৩৯টি সাউন্ড গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংখ্যাগুলো পুলিশ সদর দপ্তরের অনুসন্ধান ও তৎপরতার মাধ্যমে জব্দ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় চালানো রেইড ও সমন্বিত অভিযানের ফলাফল হিসেবে এগুলো পাওয়া গেছে বলে তথ্য প্রদান করা হয়েছে।
অস্ত্র-গোলাবারুদ জমা ও আইনি ব্যবস্থা
পুলিশ একই সঙ্গে অনুরোধ করেছে যে, যে কোনো ব্যক্তির কাছেই লুট হওয়া কোনো ধরনের অস্ত্র বা গোলাবারুদ রক্ষিত থাকলে তারা আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিকটস্থ থানায় এগুলো জমা দেবেন। পুলিশ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে না দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপর্যুক্ত সংখ্যাগুলো পুলিশ সদরদপ্তরের কর্তৃপক্ষের হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ এই অবস্থায় সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ফেরাতে তদন্ত এবং পুনরায় অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারের কাজ জোরদার করবে বলে জানিয়েছে।
ঘটনাগুলো সম্পর্কে প্রশাসন ও আইন-এজেন্সিগুলো কি ধাপে কাজ করেছে বা ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ এই প্রতিবেদনে নেই। তবে পুলিশ সদরদপ্তরের দেয়া সম্মিলিত সংখ্যাগুলোই এই প্রতিবেদনের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হলো।