অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের রাজনীতির ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং এর সম্ভাব্য নেতিবাচক পরিণতি সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে মন্তব্য করেছেন যে, এই ধরনের অশুভ রাজনৈতিক চর্চার পুনর্বাসন দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনকল্যাণের জন্য কখনোই ভালো ফল বয়ে আনবে না। শনিবার (৩১ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ও সতর্কতামূলক মন্তব্য করেন, যা দেশের রাজনৈতিক মহলে তাৎক্ষণিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ তার ফেসবুক পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন:
চাঁদাবাজি আর দখলদারত্বের রাজনীতির যে পুনর্বাসন হচ্ছে এর পরিণতি ভালো হবে না। জনমনে ক্ষোভের জন্ম দিয়ে কিভাবে নতুন বাংলাদেশের অংশ হবেন?
তার এই উক্তি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গভীর অর্থ বহন করে। তিনি মনে করেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা দেয়। রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে অবৈধ অর্থ আদায় ও অন্যের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করার প্রবণতা সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী। এই চর্চা পুনরায় সমাজে প্রতিষ্ঠিত হলে, তা দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির পথে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আসিফ মাহমুদ তার মন্তব্যে উত্থাপিত প্রশ্নটি দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নীতি-নির্ধারকদের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, যখন জনগণের মধ্যে চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের কারণে ব্যাপক অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করে, তখন সেই অসন্তুষ্ট জনতাকে সঙ্গে নিয়ে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। জনগণের আস্থা ও সমর্থন ছাড়া কোনো সরকার বা রাজনৈতিক দলই দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য অর্জন করতে পারে না।
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের রাজনীতি কেবল অর্থনৈতিক শোষণই নয়, এটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও সুশাসনের ধারণাকেও ক্ষুণ্ন করে। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে সমাজে বৈষম্য বাড়ে, সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় এবং আইনের প্রতি তাদের আস্থা কমে যায়। যখন রাজনৈতিক ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করা হয়, তখন তা রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের মতে, এই প্রবণতা দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক সংহতিকে দুর্বল করে দেয়।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, একটি সুস্থ ও জনমুখী রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা অপরিহার্য। যদি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের মতো নেতিবাচক উপাদানগুলো প্রাধান্য পায়, তবে তা কেবল জনমনে ক্ষোভই বাড়াবে না, বরং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়াকেও ব্যাহত করবে। তার এই সতর্কবাণী দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ এবং জনআকাঙ্ক্ষার মধ্যে একটি স্পষ্ট যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টা করে। তার বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আত্মবিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যদি এই ধরনের নেতিবাচক রাজনৈতিক চর্চা অব্যাহত থাকে, তবে তা দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষিত ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্নকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তাই, একটি ইতিবাচক ও জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সকল পক্ষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।