বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রশাসনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এখনও ফ্যাসিবাদের দোসররা রয়ে গেছে এবং তারা মাঝে মধ্যে ‘‘হাতি হওয়ার জন্য উঁকি দিচ্ছে’। তিনি একই দিনে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্সের সামনে বন্যাদুর্গতদের সার্বিক সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধনকালের এসব মন্তব্য করেন।
ইউডিবি উদ্বোধন ও পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ
সোমবার (২৬ আগস্ট) সকালে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রিজভী বলেন, মুক্ত পরিবেশে শ্বাস নিতে পারা গেলেও প্রশাসনের নানা প্রতিষ্ঠানে প্রভাবশালী শক্তি অব্যাহত আছে। তিনি দাবি করেছেন যে ওই শক্তিরা সময়োপযোগীভাবে ক্ষমতা প্রয়োগের চেষ্টা করছে এবং প্রশাসনের মাঠপর্যায়ে পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন রয়েছে।
কে-র ও কী বললেন
রিজভী বলেন তারা গত ১৬ বছর ধরে সরকারী নানা জুলুম ও অত্যাচার সহ্য করেছে। তিনি অভিযোগ করেন যে যারা চাকরিরত অবস্থায় এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন তাদের পদোন্নতি বা ভালো পদায়ন করা হয়নি। সেই প্রেক্ষাপটে তিনি প্রশাসনের পুনর্গঠন প্রসঙ্গ তুলেছেন। রিজভী আরও বলেছেন, বর্তমান যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রয়েছে তাকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে এই ধরনের কার্যকলাপ পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে। তিনি প্রশাসনে নিয়োগপ্রাপ্ত সচিব ও এসপিদের ভূমিকাও আক্ষেপের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন।
আনসার ও অস্ত্র উদ্ধারের আহ্বান
রিজভী আনসার বাহিনীর ওপরও মন্তব্য করেন। তিনি বলেছেন, আনসার বাহিনীর কোনো দাবি-দাওয়া থাকলে তা নিয়ে আলোচনা করা যায়; কিন্তু দাবি মেনে নেওয়ার পরও কাউকে অবরুদ্ধ করে রাখার মতো কাজ হওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত অস্ত্র উদ্ধারের আহ্বান জানান এবং বলেন যে অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত হবে যারা শেখ হাসিনার রক্ষা কাজ করেছে তাদের সরিয়ে দক্ষ ব্যক্তিদের পদায়ন করা।
“মুক্ত পরিবেশে শ্বাস নিতে পারছি। কিন্তু প্রশাসনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ফ্যাসিবাদের দোসররা রয়ে গেছে। যারা হাতি হওয়ার জন্য মাঝে মাঝে উঁকি দিচ্ছে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলা হয় যে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (অ্যাব) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যাদুর্গত এলাকায় সার্বিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে। রিজভীর বক্তব্যে বন্যাদুর্গতদের দ্রুত সহায়তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সংশোধনের দাবি মিলিতভাবে উঠে এসেছে।
রিজভী additionally উল্লেখ করেছেন যে এমন ঘটনার মধ্যে গতকাল আনসারদের বিরুদ্ধে যে আচরণ হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে টিপ্পনি করেছিলেন এবং তিনি ফের বলেছিলেন যে পরিকল্পিত বিলম্বের কারণে প্রশাসনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছেনা।
সংগঠিত এই ত্রাণ কার্যক্রমের উদ্বোধন ও রিজভীর উক্তিগুলো অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের মধ্যেই প্রতিধ্বনিত হয়। তিনি তার বক্তব্যে প্রশাসনের পুনর্বিন্যাস ও দাবি-দাওয়া বিষয়ক আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন।
উপসংহারে, অনুষ্টানে রিজভী সরকারি অস্থিরতা ও প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে তার উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বন্যাদুর্গতদের জন্য শুরু করা সহায়তা কার্যক্রমের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।