বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নিঃশর্ত মুক্তি, সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া এবং সভা-সমাবেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি এই দাবিসমূহ একটি বিবৃতিতে তুলে ধরেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেন।
বিবৃতি ও অভিযোগ
বিবৃতিতে ফখরুল বলেন যে, বর্তমান সরকার আইন, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক রীতি-নীতিকে উপেক্ষা করে জনরোষ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে নানা পদক্ষেপ গ্রহন করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারের নীতির ফলে রাষ্ট্রব্যবস্থা ছিন্নভিন্ন হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক ও মানবিক চরিত্র ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এসব প্রতিফলন হিসেবে তিনি গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, বাক-স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের ওপর নানা ধরনের বাধার উদাহরণ দেন এবং দাবি করেন যে মানুষের সাংবিধানিক অধিকারের ক্ষতি হয়েছে।
কোটা আন্দোলন ও দমন-নির্বাচন সম্পর্কিত দাবি
বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করেন যে, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দমন করতে সরকার বর্বরোচিত আক্রমণ করেছে। তিনি বলেন যে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অমার্জনীয় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এবং তাদের অপরাধের তালিকা এতই দীর্ঘ যে তা বিবরণ হিসেবে শেষ করা যাবে না।
ফখরুল আরও বলেন যে, এখনও অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের খোঁজ পাচ্ছেন না এবং রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার ঘটনার একটি উদাহরণ তিনি তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে, ওই এলাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাসরুর হাসানকে গত ২৫ জুলাই রাতে ডিবি তুলে নিয়ে যায়; এরপর অভিভাবকরা থানা, ডিবি অফিস ও বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজাখুঁজি করলেও কোথাও তাকে খুঁজে পাননি। তিনি বলেন যে, ৩০ জুলাই রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করার সময় মাসরুরের বাবা ও ভাইকে সেখান থেকে তুলে নেয় ডিবি।
অভিভাবক ও সমর্থকদের উদ্বেগ
বিবৃতিতে ফখরুল জানান যে, এই ধরনের ঘটনা অনেকে অভিভাবককে উদ্বিগ্ন ও অসহায় অবস্থায় ফেলেছে। তিনি বলেন কারফিউ চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকা ভাগ করে ‘ব্লক রেইড’ পরিচালনা করছে এবং নির্বিচারে ছাত্র গ্রেফতার করা হচ্ছে, যা অভিভাবক, তরুণ সমাজ ও জনমনে ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টি করছে।
তবে তিনি এই ধরনের repressিভ কৌশলের পরেও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন নতুন উদ্যমে এগিয়ে নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন। বিবৃতিটি বুধবার, ৩১ জুলাই গণমাধ্যমে পাঠানো হয় এবং সেখানে উপরের অভিযোগ ও দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।
বিবৃতিতে থাকা দাবিগুলো বলতে গেলে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নিঃশর্ত মুক্তি, সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া, সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া—এই চারটি প্রধান দাবি ছিল।
বিবৃতিতে উল্লিখিত অভিযোগ, ঘটনাবলী ও দাবিগুলো ফখরুলের বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।