শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার তীব্র সমালোচনা সোহেল তাজের

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরেই দেশে ফেরার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তার কঠোর সমালোচনা করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই বক্তব্যকে তিনি চরম ভণ্ডামি ও অহঙ্কারের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি এই ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

সোহেল তাজ তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, “একজন মানুষের অতিমাত্রায় ইগো বা অহঙ্কার কীভাবে একটি পুরো দেশ এবং ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলকে চূড়ান্ত ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে, তার বড় প্রমাণ হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবার।” তিনি আরও বলেন, দেশ ও মানুষের সাথে নানাভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনরোষের মুখে পালিয়ে গিয়ে আবারও দেশে ফেরার কথা বলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নতুন বিপদে ফেলার অভিযোগ

সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বিগত সরকারের আমলে ছাত্র-জনতার ওপর চরম গণহত্যা চালানো হয়েছে, অগণিত মানুষকে গুম ও খুন করা হয়েছে, দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে গণতন্ত্রকে স্থায়ীভাবে কবর দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থে চরম অপব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা অবৈধ উপায়ে বিদেশে পাচার করে সেই টাকার পাহাড় তৈরি করা হয়েছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে চরম অরাজকতা সৃষ্টি করে এবং গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে গিয়ে এখন বিদেশে নিরাপদে বসে দেশে ফেরার চটকদার কথা বলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মূলত আওয়ামী লীগ-এর মাঠে থাকা নিরীহ নেতাকর্মীদের আবারও চরম বিপদের মুখে ফেলার একটি নতুন রাজনৈতিক ভণ্ডামি করা হচ্ছে। তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য বিভ্রান্তিকর এবং অপকৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়।

সোহেল তাজের রাজনৈতিক পটভূমি ও মন্ত্রী পদত্যাগের ইতিহাস

বাংলাদেশ-এর প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সন্তান সোহেল তাজ দেশের রাজনীতিতে একজন সৎ ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ-এর একক মনোনয়নে গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) সংসদীয় আসন থেকে বিপুল ভোটে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি একই আসন থেকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো জয়লাভ করেন।

রাজনৈতিক সফলতার ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনার গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান সোহেল তাজ। তবে দায়িত্ব গ্রহণের কিছুদিনের মধ্যেই নীতিগত ও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ২০০৯ সালের ৩১ মে তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ২৩ এপ্রিল তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকেও সম্পূর্ণ পদত্যাগপত্র জমা দেন। তৎকালীন সময়ে তার পদত্যাগপত্র প্রথম দফায় গৃহীত না হলেও, পরবর্তীতে একই বছরের ৭ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে তা গ্রহণ করা হয়। পদত্যাগের পর থেকে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরত্ব বজায় রেখে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সোহেল_তাজ #শেখ_হাসিনা #সংবাদ