নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নেপালের পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত বুধবার সকালে শুরু হওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনো প্রায় এক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
এই দুর্যোগের প্রভাব চীনের তিব্বত অংশেও পড়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে তিনজন নিহত এবং ৫৫৮ জন নিখোঁজ। সীমান্তের উভয় পাশেই নিখোঁজদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি পর্যটক। নেপালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ১৭৮ জন ভারতীয়, ১২৭ জন নেপালি, ৬৫ জন আমেরিকান এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন নাগরিক। এছাড়াও, অনেক সেনা ও পুলিশ সদস্যও নিখোঁজ।
দুর্যোগের কারণ ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, হিমবাহের ধস ও ধ্বংসাবশেষের প্রবাহের কারণে এই আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়েছে। ইউএসজিএস আরও সতর্ক করেছে যে, নদীগুলোতে ধ্বংসাবশেষ জমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতি দুর্যোগপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য উদ্বেগের কারণ।
উদ্ধার ও পরিদর্শন কার্যক্রম
আকস্মিক বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকা আজ পরিদর্শন করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তিনি নুয়াকোট জেলার বিদুর ও এর পার্শ্ববর্তী জনপদগুলো ঘুরে দেখেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্দেশ্যে এই পরিদর্শন করা হয়।
একইভাবে, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংও আজ তিব্বত অংশের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এর আগে, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সর্বাত্মক উদ্ধারকাজ চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্টের এই নির্দেশনার পর থেকে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত বন্দরের ক্ষতি
চীন ও নেপালের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের প্রধান সীমান্ত পারাপার কেন্দ্র চীনের গিরং স্থলবন্দরটি আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে দৃশ্যত সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। গত বুধবারের এই ভয়াবহ দুর্যোগে স্থলবন্দরটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও পর্যটন যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুতর প্রভাব ফেলবে।
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপাল ও চীনের সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উভয় দেশেই উদ্ধার অভিযান চলমান এবং নিখোঁজদের সন্ধানে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে এবং তাদের পুনর্বাসনে উভয় দেশের সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে।