আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে তেহরানে ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধিদল

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। ইরান সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে ৩ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত এই প্রতিনিধিদলটি সে দেশে অবস্থান করবে এবং খামেনির বিদায়, জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণ করবে।

প্রতিনিধিদলের সফর ও সদস্যবৃন্দ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপির নেতৃত্বে গঠিত এই প্রতিনিধিদলে বেশ কয়েকজন শীর্ষনেতা যুক্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন রাজশাহী মহানগরী আমির ড. মো. কেরামত আলী এমপি, মো. নুরুল আমীন এমপি, পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা এমপি, ডা. এসএম খালিদুজ্জামান এবং এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী। জোটের প্রতিনিধিরা ইরানে অবস্থানকালে সরকারের আয়োজিত একাধিক শোকানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন এবং গভীর সমবেদনা প্রকাশ করবেন।

বিপুল জনসমাগমের প্রস্তুতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির শেষ বিদায় ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে রাজধানী তেহরানে প্রায় ২ কোটিরও বেশি মানুষ সমবেত হতে পারেন বলে আশঙ্কা ও পূর্বাভাস ব্যক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, কেবল তেহরান শহরেরই প্রায় এক কোটি বাসিন্দা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এছাড়া অন্যান্য প্রদেশ ও সংলগ্ন এলাকা থেকেও বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ তাদের প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হবেন।

রাজধানী ছাড়াও দেশটির ধর্মীয় দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থান পবিত্র নগরী কুম এবং মাশহাদে বড় পরিসরে শোকানুষ্ঠান ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এসব স্থানেও বিশাল জনতার ঢল নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দীর্ঘ শাসনকাল ও জানাজার সময়সূচি

উল্লেখ্য, টানা ৩৬ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করে আসা আলী খামেনি সম্প্রতি এক সামরিক হামলার প্রথম দিন নিহত হন। ওই আকস্মিক হামলার পর থেকেই সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দেয়, যা পরবর্তীতে ব্যাপক সংঘাত ও যুদ্ধে রূপ নেয়। “দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে খামেনি অন্যতম প্রভাবশালী ও শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত ছিলেন।”

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৪ জুলাই তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাজার মূল কর্মসূচি শুরু করা হবে। এরপরের ধাপ হিসেবে ৭ জুলাই পবিত্র নগরী কুমে বিশেষ ধর্মীয় শোকসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন রাখা হয়েছে। সবশেষে ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শহর এবং খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত ও দাফন করা হবে। রাষ্ট্রীয় এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে সমগ্র দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

#আন্তর্জাতিক #ইরান #রাজনীতি #সংবাদ