আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল
ইরান-এর প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা ইমাম আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল রাজধানী তেহরান-এ পৌঁছেছে। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিদলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় তারা মধ্যপ্রাচ্যের এই ঐতিহাসিক দেশটির মাটিতে অবতরণ করেন।
তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আন্তর্জাতিক নেতাদের শ্রদ্ধা নিবেদন
পরবর্তীতে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত রাষ্ট্রপ্রধান, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা তেহরান-এর বিখ্যাত গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে সমবেত হয়েছেন। সেখানে ইরান-এর পরলোকগত সর্বোচ্চ নেতার মরদেহ সাধারণ মানুষ এবং আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হয়। বাংলাদেশের স্পিকারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের পুরো প্রতিনিধিদলই উক্ত স্থানে উপস্থিত থেকে মরদেহের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং বিশেষ মোনাজাতে শরিক হন।
জানাজা, দাফন প্রক্রিয়া ও প্রতিনিধিদলের সূচি
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, শনিবার (৪ জুলাই) খামেনির মূল জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামী ৯ জুলাই তার জন্মস্থান মাশহাদ শহরের পারিবারিক গোরস্থানে তাকে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। শনিবার আয়োজিত সর্বজনীন জানাজা শেষ করে বাংলাদেশি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সদস্যদের নিজ দেশে ফেরত আসার পরিকল্পনা রয়েছে।
খামেনির জীবন পরিচিতি ও সংঘাতের প্রেক্ষাপট
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল উত্তর-পূর্ব ইরান-এর ধর্মীয় নগরী মাশহাদ-এ এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও প্রশাসনিক নেতার দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন জেনেভা শহরে বহুপাক্ষিক শান্তি আলোচনা চলছিল, ঠিক সেই সংবেদনশীল সময়ে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান বাহিনী ইরান-এর অভ্যন্তরে আকস্মিক ও শক্তিশালী বিমান হামলা চালায়। এই মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক হামলায় ৮৬ বছর বয়সে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশের বেশ কয়েকজন সামরিক ও বেসামরিক শীর্ষ কর্মকর্তা শহীদ হন। এই অপ্রত্যাশিত ও নির্মম ঘটনা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলসহ বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে প্রচণ্ড অস্থিরতা ও তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান এই চরম সংকটময় মুহূর্তে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি এবং তাদের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন বিশেষ কূটনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে। বিশ্বের বহু রাষ্ট্রনায়ক এই হামলা ও হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে المنطقة বা অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জোর তাগিদ দিয়েছেন।
#আন্তর্জাতিক #ইরান #রাজনীতি #সংবাদ