সংসদে থাকা না-থাকা নিয়ে জামায়াত আমীরের কড়া হুঁশিয়ারি
বিজয়নগরে আয়োজিত এক বিশাল গণসমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় স্বার্থে কথা বলার সঠিক পরিবেশ না থাকলে তার দল আর জাতীয় সংসদে অবস্থান করবে না। তিনি স্পষ্ট করে জানান, জনগণ ও দেশের প্রয়োজনে কথা বলার পরিবেশ যত দিন বজায় থাকবে, তত দিনই তারা সংসদে ভূমিকা রাখবেন। কিন্তু যে মুহূর্তে মনে হবে সংসদে সাধারণ মানুষের অধিকার বা দেশের স্বার্থ নিয়ে কথা বলার কোনো কার্যকর সুযোগ অবশিষ্ট নেই, ঠিক সেই দিনই তারা সংসদ ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেবেন। একই সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ সার্বভৌমত্ব ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কর্মী-সমর্থকদের একটি নতুন “বিপ্লবের” জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিগত শাসন আমলের বিচার এবং সরকারের প্রতি কঠোর সমালোচনা
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত বিভিন্ন গুম, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড এবং গণহত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে এই প্রতিবাদী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সংহতি প্রকাশ করে এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ১১-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা। বক্তব্যে জামায়াত প্রধান বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে অভিযোগ তোলেন যে, বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্বে আসার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ছয় শতাধিক মানুষ রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে দুই শতাধিক দলীয় কর্মীও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যে রাজনৈতিক দল নিজ দলীয় কর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান ও দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হয়, তারা কীভাবে দেশের বিশাল ২০ কোটি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করবে?”
দলীয়করণ, বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি ও নতুন বিপ্লবের আহ্বান
দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলেজ, প্রশাসনিক কাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নজিরবিহীন দলীয়করণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি দেশকে আবারও একটি একদলীয় ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই অরাজকতা রুখতে জনগণ আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। তিনি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠার তাণ্ডব, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড, বিগত বছরের গুম-খুন এবং জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের মতো প্রতিটি নির্মম ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া বর্তমানে চরমভাবে বিলম্বিত হচ্ছে।
সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের অঙ্গীকার
সম্প্রতি গাইবান্ধা এলাকায় ঘটিত সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার সঠিক তদন্ত দাবি করে তিনি বলেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং নতুন ফ্যাসিবাদের ভাইরাস মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে নতুন গণবিপ্লব অনিবার্য হয়ে উঠেছে। জামায়াতে ইসলামী দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় চিরকাল প্রথম সারিতে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাবে এবং কোনো অবস্থাতেই অন্যায়ের সঙ্গে কোনো আপস করবে না। সমাবেশে জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দও সংহতি জানিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #সংসদ