স্কুল কমিটি নির্বাচন কেন্দ্র করে সহিংসতা: ছাত্রশিবির নেতা নিহত

গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর এক স্থানীয় নেতা নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রবিবার বিকেলে সংঘটিত এই মর্মান্তিক ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে এক সন্দেহভাজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। নিহত তরুণের নাম সাইফুল ইসলাম (২২), যিনি স্থানীয় বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবির-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই সাথে গুরুতর আহত সালাউদ্দিন নামে অপর এক তরুণ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পটভূমি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে কাচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সাথে স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলামের ছেলে মুকুলের তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। বাকবিতণ্ডার মূল বিষয়বস্তু ছিল বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচন। বাকবিতণ্ডা চলার সময় সেখানে উপস্থিত সাইফুল ইসলাম এবং সালাউদ্দিন প্রধান শিক্ষকের পক্ষ অবলম্বন করে কথা বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মুকুল, তার ভাই পলাশ এবং তাদের সহযোগী আশরাফ একত্রিত হয়ে আচমকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাইফুল ও সালাউদ্দিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দুজনই মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত ও আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

চিকিৎসা ও আইনগত পদক্ষেপ

হামলার সাথে সাথে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে আসেন এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে সাইফুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে স্থানাস্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত সালাউদ্দিনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া-র শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয় থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ঘটনায় জড়িত প্রধান অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে “আশরাফ নামের এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।” এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

#বাংলাদেশ #সংবাদ #আইনশৃঙ্খলা #সহিংসতা