ভোটাধিকার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে শ্রমিক-জনতার ধারাবাহিক আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা

চট্টগ্রাম শহরের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশাল প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র অন্যতম শীর্ষ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক ভোটাধিকার এবং গণভোটের সুনির্দিষ্ট রায় পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শ্রমজীবী ও সাধারণ জনতার রাজপথের আন্দোলন অবিরাম চলবে। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী যদি জনগণের প্রদত্ত গণতান্ত্রিক রায়কে বিন্দুমাত্র সম্মান না জানায়, তবে নিজেদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার সার্বিক সংগ্রাম কোনো অবস্থাতেই থামবে না।

ইসলামী আদর্শ ও সুসংগঠিত শক্তির গুরুত্ব

তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, সমগ্র দেশের সার্বিক কল্যাণ সাধন এবং একটি সুদৃঢ় ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় চিরন্তন ইসলামী মূল্যবোধ ও আদর্শ অনুসরণ করার কোনো বিকল্প পথ নেই। দেশের সর্বস্তরের খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সামাজিক কাঠামোর ইতিবাচক রূপান্তর ও পূর্ণাঙ্গ পরিবর্তনের লক্ষ্যে সবাইকে একই পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায়সংগত অধিকার রক্ষা ও স্বার্থ সংরক্ষণে একটি শক্তিশালী ও সংগঠিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার গুরুত্ব তিনি বিশেষভাবে পুনর্ব্যক্ত করেন।

জাতীয় বাজেট, কর্মসংস্থান ও শ্রমজীবী মানুষের দাবি

ঘোষিত জাতীয় প্রস্তাবিত বাজেটের সার্বিক বিশ্লেষণ তুলে ধরে তিনি বলেন, যেকোনো দেশের বাজেটকে প্রকৃত অর্থেই জনবান্ধব এবং শ্রমিকবান্ধব রূপ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। দেশের বর্তমান তীব্র বেকারত্ব দূরীকরণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিম্নআয়ের শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রস্তাবিত বাজেটে কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে বলে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে সরকারের নেওয়া যেকোনো ইতিবাচক ও কল্যাণমুখী সিদ্ধান্তকে তারা সাদরে স্বাগত জানাবেন বলেও স্পষ্টভাবে স্মরণ করিয়ে দেন।

উক্ত সম্মেলনে উপস্থিত বিশেষ অতিথিবৃন্দ এবং বিভিন্ন স্তরের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ শ্রমজীবী সমাজকে সুসংগঠিত হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান। বক্তারা উল্লেখ করেন, একনিষ্ঠ ও আদর্শিক আন্দোলনের জন্য কেবল বাহ্যিক সংখ্যার চেয়ে দক্ষ, যোগ্য ও চরিত্রবান কর্মী গড়ে তোলা অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। বহু বছর ধরে দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে শ্রমজীবী মানুষের অপরিসীম অবদান থাকলেও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের প্রকৃত স্বার্থের সঠিক প্রতিফলন কখনোই ঘটেনি। এজন্য আগামী জাতীয় বাজেটে শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ এবং বিদ্যমান ন্যূনতম মজুরি কাঠামো জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনা করার জোরালো দাবি জানান সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ।

শ্রমিক কল্যাণে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের অঙ্গীকার

সম্মেলনে বক্তারা সুদৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন যে, শ্রমজীবী মানুষের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের যথাযথ মর্যাদা প্রদান এবং তাদের সর্বপ্রকার শোষণ থেকে মুক্ত করার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। তারা স্পষ্ট করে জানান, রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার আদায়ের এই সুদীর্ঘ লড়াইয়ে শ্রমিক সমাজের ঐক্যবদ্ধ শক্তিই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। জাতীয় পর্যায়ে যেকোনো সংকট মোকাবিলায় সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে সোচ্চার থাকার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন উপস্থিত কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #চট্টগ্রাম #শ্রমিক_আন্দোলন #বাজেট