গণভবনের সামনে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল ও সীমানা বিতর্ক

রাজধানীর মিরপুর সড়কে গণভবনের সামনে ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠন যুবলীগ-এর নেতাকর্মীরা। তবে মিছিলের স্থানটি ঠিক কোন থানার প্রশাসনিক আওতাভুক্ত, তা নিয়ে স্থানীয় শেরেবাংলা নগর ও মোহাম্মদপুর থানার পুলিশের মধ্যে সুস্পষ্ট ভিন্নমত ও দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। ঘটনার পর দুই থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা সীমানা জটিলতার অজুহাত তুলে নিজ নিজ এলাকার মধ্যে মিছিলের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। ঘটনার স্থানটি নিজেদের এলাকাভুক্ত নয় বলে দাবি করায় শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার বিবরণ ও মিছিলের গতিপথ

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সংগঠিত দল প্রথমে রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ-এর সামনের সড়কে একত্রিত হয়ে মিছিল শুরু করে। পরবর্তীতে মিছিলটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে গণভবন-এর মূল ফটক অতিক্রম করে দ্রুত শেষ হয়। পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মাত্র এক থেকে দেড় মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন করে অংশগ্রহণকারীরা স্থান ত্যাগ করে। হঠাৎ করে আয়োজিত এই মিছিলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পথচারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মুহূর্তের জন্য ভয় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পুলিশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন

ঘটনার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মোহাম্মদপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান যে, তাদের এলাকার সীমানায় এ ধরনের কোনো মিছিল সংঘটিত হয়নি। মিছিলটি কখন বা কীভাবে হয়েছে সে সম্পর্কে তাদের কাছে পূর্বে কোনো তথ্য ছিল না। দৃশ্যমান আলামত পর্যালোচনা করে তাদের দাবি, ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে শেরেবাংলা নগর থানা এলাকার সীমানার ভেতরে পড়েছে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

অন্যদিকে, শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাবি করেন যে, মিছিলটি মূল সড়কের মাঝামাঝি অংশে অনুষ্ঠিত হওয়ায় তা তাদের প্রশাসনিক সীমানার অন্তর্ভুক্ত নয়। তবুও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া ও তদন্তের আশ্বাস

দুই থানার সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা ও দায় ঠেলিয়া দেওয়ার বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার জানান, গণভবনের সামনের সড়কে বিক্ষোভ মিছিলের বিষয়টি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ইতোমধ্যে কারা এই নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে মিছিলের আয়োজন করেছে এবং এতে কারা সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে তা নির্ধারণ করতে বিশেষ তদন্ত শুরু করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘনকারী ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী অংশগ্রহণকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #ঢাকা