ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক ছাত্রসমাবেশে সংগঠনটির কর্মীদের জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা ও আদর্শিক চেতনায় নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। একই সমাবেশে সরকারের প্রতি গণভোটের প্রথা প্রতিষ্ঠা এবং জুলাই সনদের অঙ্গীকার পূরণের আহ্বান জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান। শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগের শহীদ ওসমান হাদি চত্বরে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের এই ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক বিশাল ছাত্রসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদের সঞ্চালনায় এই সমাবেশ আয়োজিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশকে একটি আদর্শভিত্তিক ছাত্রসংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সমাজে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য এই সংগঠন নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শ ধারণ করে কাজ করছে। সৈয়দ রেজাউল করীম আরও উল্লেখ করেন যে, অন্যান্য অনেক ছাত্রসংগঠনের কর্মকাণ্ডে যেখানে অরাজকতা, সন্ত্রাস ও দখলদারত্বের মতো নেতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়, সেখানে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে চলে। তিনি কর্মীদের জ্ঞান অর্জন, দক্ষতা বৃদ্ধি, নৈতিক মূল্যবোধের অনুশীলন এবং আদর্শিক চেতনায় নিজেদের সুদৃঢ়ভাবে গড়ে তোলার গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেন। তাঁর মতে, একটি আদর্শিক সমাজ গঠনে ছাত্রসমাজের এই ভূমিকা অপরিহার্য।

সমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান সরকারের প্রতি দুটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারকে অবশ্যই গণভোটের প্রথা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যা জনগণের মতামত প্রকাশের একটি কার্যকর ও গণতান্ত্রিক মাধ্যম। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে বলে তিনি মনে করেন। এছাড়াও, তিনি জুলাই সনদের অঙ্গীকার পূরণের ওপর বিশেষ জোর দেন। গাজী আতাউর রহমান জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও জনমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য এই বিষয়গুলো অত্যন্ত জরুরি এবং এর অনুপস্থিতি জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে।

এই ছাত্রসমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিন আল মাদানী, আশরাফ আলী আকন ও অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, যুগ্ম মহাসচিব নেছার উদ্দিন, সহকারী মহাসচিব শেখ ফজলুল করিম মারুফ এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদসহ দল ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতারা সমাবেশে অংশ নেন। এই সমাবেশ ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের দীর্ঘ ৩৫ বছরের পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা এবং দেশের সার্বিক কল্যাণের জন্য সরকারের প্রতি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।