জামায়াতে ইসলামীর ছায়া বাজেট পেশ: সর্বোচ্চ বরাদ্দ জনপ্রশাসন ও শিক্ষা খাতে

ঢাকা-র মগবাজার এলাকায় আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে দেশের অন্যতম বিরোধী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য একটি বিকল্প বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। একটি কল্যাণমুখী ও জনবান্ধব রাষ্ট্রগঠনের লক্ষ্য সামনে রেখে দলটি ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার এই বিকল্প বা ছায়া বাজেট পেশ করে। বাজেট প্রস্তাবনা অনুষ্ঠানে জানানো হয় যে, প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের সার্বিক প্রশাসনিক সংস্কার, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ঋণ পরিষদের বাধ্যবাধকতা এবং প্রযুক্তি খাতের গুণগত বিকাশে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।

খাতওয়ারী বরাদ্দ ও প্রশাসনিক ব্যয়

জামায়াতের প্রস্তাবিত বাজেটের খাতওয়ারী হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, সর্বমোট জাতীয় বাজেটের প্রায় ২৪ দশমিক ০৯ শতাংশ অর্থ কেবল জনপ্রশাসন খাতেই বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছে। টাকার মূল্যে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লাখ ২ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। দেশের শাসনতান্ত্রিক অবকাঠামো মজবুত করা এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই বিশাল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে মানবসম্পদ উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হয়েছে। এই যৌথ খাতে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা বা মোট বাজেটের ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। “শিক্ষা ও প্রযুক্তির সঠিক বিকাশ ব্যতীত কোনো জাতির স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব নয়,” বলে বাজেট উপস্থাপনকালে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।

ঋণ পরিশোধ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন

দেশের বর্তমান অর্থনীতিতে দেশীয় এবং বৈদেশিক ঋণের ভার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই বাজেট প্রস্তাবনায় ঋণের দায় মেটাতে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পরিশোধের পরিকল্পনা ধরা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশের সমপরিমাণ। জাতীয় অর্থনীতিকে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সুনাম বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত ছায়া বাজেটে পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সুষম সম্প্রসারণে ৬৫ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা পুরো বাজেটের মোট ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি ও সার্বিক জনকল্যাণ

সাধারণ মানুষের অন্ন বস্ত্র ও মৌলিক অধিকারের সুরক্ষায় এই বাজেটে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখার উদ্দেশ্যে কৃষি খাতে ৫১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা বা ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। দেশের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে সহায়তা প্রদান করতে সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা খাতে ৪৮ হাজার ১৫০ কোটি টাকা এবং জনস্বাস্থ্যের মানোন্নয়নে স্বাস্থ্য খাতে ৪৫ হাজার ২৪০ কোটি টাকা নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব এবং দেশীয় শিল্প রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সুনির্দিষ্ট অর্থ রাখা হয়েছে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষা খাতে ৪৩ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ৩৪ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনার কথা বলা হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সর্বমোট ২৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়।

#বাজেট #অর্থনীতি #জামায়াতে_ইসলামী #বাংলাদেশ