বিরোধী দলের মন্তব্য নিয়ে ইশরাক হোসেনের সমালোচনা

সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ এবং নিজস্ব রাজনৈতিক ফায়দা লোটার উদ্দেশ্যে বিরোধী দল বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রদান করছে বলে তীব্র মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, বর্তমান সরকার এবং বিএনপি-কে বেকায়দায় ফেলার জন্য একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নানা ধরনের অসত্য ও বিভ্রান্তিকর কথা ছড়িয়ে দিচ্ছে। তবে দেশের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত সচেতন এবং দেশের সার্বিক কল্যাণে কারা প্রকৃত মঙ্গলজনক ভূমিকা রাখছে, তা তারা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বোঝেন ও বিচার করেন।

রাজধানী ঢাকা-র সূত্রাপুর কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি-র প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে পুরান ঢাকার এই ভেন্যুতে স্থানীয় দুস্থ, অসহায় ও খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী এবং বস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

জনগণের সচেতনতা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা

বক্তব্য প্রদানকালে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, “আমাদের দেশের অনেক রাজনৈতিক নেতা মনে করেন যে তারা নিজেরা খুব বেশি বোঝেন এবং দেশের সাধারণ মানুষ কিছুই বোঝে না।” কিন্তু বাস্তব সত্য হলো দেশের শ্রমজীবী ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষই সবচেয়ে ভালো বোঝেন যে দেশের পরিস্থিতি কোন দিকে ধাবিত হচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাধারণ জনগণকে বোকা বানানোর বা বিভ্রান্ত করার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে তাদের মতামত ও রায় প্রদান করেছে। সাধারণ মানুষ বিএনপি-র নেতৃত্বাধীন যুগপৎ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া নেতাদের বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে জাতীয় সংসদে পাঠিয়েছে। বর্তমান সংসদের মোট ৩০০ জন মাননীয় সংসদ সদস্যের মধ্যে ২১৭ জনই নতুন মুখ, যা দেশের নতুন রাজনৈতিক ধারার এক অনন্য সূচনা।

নতুন নেতৃত্বের দৃঢ়তা ও সরকারের প্রতিশ্রুতি

জাতীয় সংসদ ও সরকারের নতুন কাঠামো নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। একইভাবে বিরোধীদলীয় নেতা এবং তিনি নিজেও প্রথমবার জাতীয় সংসদে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এমনকি বর্তমান মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্যই নতুন মুখ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে এই নতুনত্বকে তারা কোনো দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করেন না। বরং সরাসরি জনগণের পবিত্র ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় তারা নিজেদের আরও বেশি শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী মনে করেন। তিনি বলেন, “আমরা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতো কোনো রাবার স্ট্যাম্প সরকার নই। আমরা জনগণের সুনির্দিষ্ট ভোটে নির্বাচিত একটি বৈধ সরকার।”

জনগণের কাছে জবাবদিহিতা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, তাদের পরিচালিত সরকারকে সর্বাবস্থায় দেশের সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হবে এবং কাজের মেয়াদ শেষে আবার জনগণের দরবারে ফিরে যেতে হবে। নতুন হিসেবে প্রশাসনিক কাজের গতি ও অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ে কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে, তবে জনগণের স্বার্থরক্ষা এবং বাংলাদেশ-এর সার্বিক সুরক্ষার প্রশ্নে সরকারের কোনো ঘাটতি বা আপস নেই।

রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী ঐতিহাসিক পটভূমির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা যেমন মানুষ দেখেছে, তেমনি ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক আন্দোলনে কার কী ভূমিকা ছিল সেটিও জনগণ প্রতক্ষ করেছে। তাই রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য কেউ যত বক্তব্যই দিক না কেন, জনগণকে ইতিহাস, বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিবেচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সংবাদ #সরকার