সরকারি অর্থে নির্বাচনি প্রচারের অভিযোগ: সিটি প্রশাসকদের বিরুদ্ধে এনসিপির তোপ

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সরকারি তহবিল ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে আগাম নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সম্প্রতি রাজধানীর নাখালপাড়ার হোসেন আলী উচ্চবিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দলটির প্রতিনিধিরা এই বঞ্চনা ও অব্যবস্থাপনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। এনসিপির ঢাকা উত্তর নগর শাখার পরিবেশ ও জলবায়ু সেলের উদ্যোগে এবং মেয়রপ্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদীবের সমন্বয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সরকারি তহবিলের অপব্যবহার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি দাবি

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, সরকারি কোষাগারের অর্থ, সিটি করপোরেশনের নিজস্ব লোগো, প্রশাসনিক জনবল ও যানবাহন ব্যবহার করে নির্বাচনি প্রচার চালানো সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং গণতান্ত্রিক আচরণের পরিপন্থী। তারা বলেন, “প্রশাসকের দায়িত্বে সমাসীন থেকে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না।” এই পরিস্থিতি নিরসনে এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে দলটির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। তাদের মতে, দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যানার ও লাখ লাখ পোস্টার টাঙিয়ে পুরো নগরীকে দৃশ্যদূষণের কবলে ঠেলে দিয়েছেন, যা তাদের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও অযোগ্যতাকেই স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।

নগর পরিচালনায় চরম ব্যর্থতা ও নাগরিক ভোগান্তি

সিটি কর্পোরেশনের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতারা বলেন, কোরবানির পশুর হাট বসানো থেকে শুরু করে বর্জ্য অপসারণ এবং নাগরিক সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে বর্তমান প্রশাসকরা সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। আবাসিক এলাকা এবং এমনকি মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন স্থানে পশুর হাট বসিয়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। নগরীর পরিবেশ রক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার যে প্রাথমিক দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের থাকে, তা পালনে এই প্রশাসকরা দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। ফলে পদে বহাল থেকে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে প্রচার করার মতো কোনো নৈতিক অধিকার তাদের অবশিষ্ট নেই।

আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে এনসিপি

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে সাবেক এই অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা ও দলীয় প্রতিনিধি উল্লেখ করেন যে, নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগ বিভিন্ন স্থানে এখনো মিছিল ও সভা-সমাবেশ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন তৎপরতা সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্বলতা এবং দায়িত্বহীনতার প্রমাণ দেয়। স্থানীয় সরকারের আসন্ন সিটি নির্বাচনে নিজেদের শক্ত অবস্থানের কথা জানিয়ে দলটি জানায়, তারা এককভাবে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। তবে নির্বাচনি তফসিল ঘোষিত হওয়ার পর অন্যান্য সমমনা দলগুলোর সাথে বৈঠক করে শেষ পর্যন্ত জোটবদ্ধভাবে নাকি এককভাবে নির্বাচনে লড়া হবে, সে ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সপ্তাহব্যাপী এই বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন কর্মসূচিতে দলটির ঢাকা মহানগর উত্তরের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরিবেশ সুরক্ষায় সাধারণ মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে এই সামাজিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।

#রাজনীতি #সিটি_নির্বাচন #ঢাকা #এনসিপি #বাংলাদেশ