ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ সংগঠনের গোপন বৈঠক ও মিছিল: মামলা দায়ের

চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ-এর উদ্যোগে গোপন বৈঠক ও মশাল মিছিলের অভিযোগে ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উক্ত মামলায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম এবং সাবেক সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনিকে প্রধান প্ররোচনাকারী ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে এই ঘটনায় আরও ৮০ থেকে ৯০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ইতোমধ্যে ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

ঘটনার পটভূমি ও মূল অভিযোগ

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায় যে গত বৃহস্পতিবার সকালের দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার রোসাংগিরি ইউনিয়নের আজিমনগর এলাকায় স্থানীয় একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিশ্রামাগারে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক গোপন বৈঠকে মিলিত হন। ওই বৈঠকে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে সেই বৈঠকের বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। গোপন বৈঠকের পর নেতাকর্মীরা নাজিরহাট-মাইঝভান্ডার সড়কে একটি মশাল মিছিল বের করেন। মিছিলে সরকারবিরোধী এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়।

পুলিশের নিয়মিত টহল দল গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিত টের পেয়ে অংশগ্রহণকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এলাকা থেকে দুজনকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন স্থানীয় পুরবা সুয়াবিল এলাকার বাসিন্দা মো. জামান বাবু ও সাইফুল ইসলাম সজিব। এ ছাড়া অন্য আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তার পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে স্থানীয় আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

আইনগত পদক্ষেপ ও পুলিশি বক্তব্য

এই নজিরবিহীন ঘটনার প্রেক্ষিতে ফটিকছড়ি থানার উপ-পরিদর্শক বাদী হয়ে বিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ আইনে মামলাটি রজু করেছেন। পুলিশ এজাহারে উল্লেখ করেছে যে, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি ও রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এই অশুভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। মামলার এজাহারে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ-এর আঞ্চলিক একাধিক প্রভাবশালী নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমসহ বখতেয়ার সাঈদ ইরান, সাবরিনা চৌধুরী এবং জসিম উদ্দিনের মতো ব্যক্তিদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ রয়েছে।

চলমান অভিযান ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা এই মামলার মূল লক্ষ্য হলো শান্ত এলাকাকে অশান্ত করার চক্রান্ত নস্যাৎ করা। তিনি নিশ্চিত করেন যে “রাষ্ট্রবিরোধী যেকোনো অপতৎপরতা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।” পলাতক ও অজ্ঞাত আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম বর্তমানে বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো এলাকায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

#আইনশৃঙ্খলা #চট্টগ্রাম #মামলা #অপরাধ