মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কোম্পানি ও বিলিয়নিয়ারদের রাজনৈতিক অনুদান রেকর্ড গড়েছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, জুন পর্যন্ত ১৮ মাসে বিভিন্ন কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রচারে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে। ২০২৪ সালের পুরো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী পর্বে কোম্পানিগুলো যে অর্থ দিয়েছিল, এবার মাত্র ১৮ মাসেই তার চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি অনুদান এসেছে। নির্বাচনী অর্থের ওপর নজরদারি করা সংগঠন পাবলিক সিটিজেনের নতুন বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।

করপোরেট অনুদানের প্রবণতা ও বিতর্ক

উৎপাদন খাতের কোচ ইনকরপোরেটেড, অনলাইন স্পোর্টস বেটিং কোম্পানি এবং বড় তামাক কোম্পানিগুলো মধ্যবর্তী নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য অনুদান দিয়েছে। নভেম্বরের নির্বাচনে দুই দলের প্রার্থীদের পক্ষে এসব কোম্পানি প্রায় ৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। ভোক্তা অধিকার সংগঠন পাবলিক সিটিজেন ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের (এফইসি) নথি বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। পাবলিক সিটিজেনের গবেষণা পরিচালক রিক ক্লেপুল এই প্রবণতাকে ‘সতর্কসংকেত’ হিসেবে উল্লেখ করে কার্যকর গণতন্ত্রের স্বার্থে এটি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। ২০১০ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রাজনৈতিক প্রচারে অনুদান ও ব্যয়ের ওপর থাকা কিছু বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পর করপোরেট অর্থের প্রবাহ দ্রুত বেড়েছে। সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত মার্কিন নির্বাচনে কোম্পানিগুলো মোট ১৭০ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছে, যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এসেছে চলতি নির্বাচনী পর্বে। এই করপোরেট অর্থের প্রবাহ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। পাবলিক সিটিজেনের মতো সংগঠনগুলোর যুক্তি, কোম্পানিগুলোর বিপুল অর্থ ব্যয়ের ফলে বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠীগুলো রাজনীতিতে তাদের প্রভাবের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি ক্ষমতা পেয়ে যাচ্ছে।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ও প্রধান খাতের অবদান

পাবলিক সিটিজেনের তথ্য অনুযায়ী, রিপাবলিকানদের সমর্থক রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটিগুলোতে অনুদান দ্রুত বাড়ছে। আগামী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকানরা যখন কঠিন লড়াইয়ের মুখে, তখনই এই অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক নেট সিলভারের পূর্বাভাসে ডেমোক্র্যাটদের হাতে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি দেখানো হয়েছে।

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে করপোরেট দাতাদের মধ্যে ক্রিপ্টো খাত সবচেয়ে এগিয়ে। এরপর রয়েছে অনলাইন বেটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাত। এই তিন খাত মিলেই কোম্পানিগুলোর মোট অনুদানের অর্ধেকের বেশি, প্রায় ৩৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার দিয়েছে। ক্রিপ্টো উদ্যোক্তা ক্যামেরন ও টাইলার উইঙ্কলভস জেমিনি ট্রাস্ট কোম্পানির মাধ্যমে ট্রাম্পের এমএজিএ ইনকরপোরেটেডকে এক কোটি ডলার অনুদান দেন। অনলাইন স্পোর্টস বেটিং কোম্পানিগুলো শিল্প খাতের সুপার পিএসি উইন ফর আমেরিকায় ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার দিয়েছে, যা মধ্যবর্তী নির্বাচনে স্পোর্টস বেটিং খাতের মোট অনুদান ৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। চ্যাটজিপিটির মূল কোম্পানি ওপেনএআই-সমর্থিত সুপার পিএসি লিডিং দ্য ফিউচারে এ পর্যন্ত ৫ কোটি ডলার পেয়েছে, যা এআই খাতের নির্বাচনী অনুদানের পরিমাণ ৬ কোটি ২০ লাখ ডলারে দাঁড় করিয়েছে। ওপেনএআই অবশ্য জানিয়েছে, কোনো বাইরের রাজনৈতিক সংগঠন তাদের হয়ে কথা বলে না।

পাবলিক সিটিজেনের হিসাবে ‘ডার্ক মানি’ সংগঠন বা অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের নির্বাচনের অর্থ অন্তর্ভুক্ত নয়। এছাড়া, কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীদের ব্যক্তিগত ব্যয়ও এই হিসাবের বাইরে, যেমন ইলন মাস্ক ও সের্গেই ব্রিন ফেডারেল নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করেছেন।