সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রাজিব শাহের ব্যতিক্রমী কৃষি উদ্যোগ: ধানক্ষেত ও ফুল বাগান

ঢাকা মহানগরের ব্যস্ত কংক্রিটের দেয়াল আর যান্ত্রিক জীবনের কোল ঘেঁষে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত ও দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-এর এক চিলতে জমিতে গড়ে উঠেছে ছোট্ট এক ধানক্ষেত। সবুজ ধানগাছে ছেয়ে থাকা এই জমির পাশে শোভা পাচ্ছে কলাগাছ ও ঢ্যাঁড়শ গাছ। শহরবাসীর কাছে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এই ক্ষুদ্র কৃষি উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করেছেন রাজিব শাহ নামের এক ভবঘুরে, গৃহহীন ও হতদরিদ্র মানুষ। বোতল কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করা এই মানুষের উদ্যোগে উদ্যানের দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও মুগ্ধতা তৈরি হয়েছে।

ব্যতিক্রমী বার্তা ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ

ধানক্ষেতের সামনে টাঙানো একটি লেমিনেটিং করা কাগজে লেখা রয়েছে, “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মোহাম্মদ রাজিব শাহের ঐতিহাসিক ধানক্ষেত।” এর ঠিক নিচেই লেখা রয়েছে, “ধান না খাইয়া যামু না ইনশাআল্লাহ। বিষয়টা মাথায় সেভ কর… ওকে ব্রো।” রাজিব শাহের কথায়, এটি কোনো বাণিজ্যিক উদ্যোগ নয়, বরং তার গভীর অনুভূতি ও ভালোবাসার এক নীরব প্রকাশ। তিনি জানান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপি-র প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জানাজার দিনে বোতল বিক্রি করে প্রাপ্ত দেড় হাজার টাকা দিয়ে তিনি এই ধানের চারা কিনে এনে রোপণ করেছিলেন।

পথশিশুদের জন্য ভাবনা ও মানবিক প্রয়াস

রাজিব শাহের লক্ষ্য অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও মানবিক। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, ধান কাটার পর উৎপাদিত চালের ভাত শহরের পথশিশুদের নিয়ে একসঙ্গে খাবেন। সেই বিশেষ লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছেড়ে কোথাও যাবেন না। ধানের পাশাপাশি তিনি সেখানে বিভিন্ন রঙের গাঁদা ফুলের চারাও রোপণ করেছেন। ফুল ফুটলে পুরো এলাকাটি আরও সুন্দর ও সুবাসিত হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রকৃতির প্রতি তার এই নিষ্কাম প্রেম সাধারণ মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছে।

দর্শনার্থীদের জন্য প্রার্থনার স্থান তৈরি

কৃষি কার্যক্রমের পাশাপাশি উদ্যানের দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা ভেবে রাজিব শাহ একটি ‘নামাজের স্থান’ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। বিশেষ করে পহেলা বৈশাখ বা অন্যান্য বড় উৎসবে যখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-এ বিপুল মানুষের সমাগম ঘটে, তখন অনেকেই উপযুক্ত প্রার্থনার স্থান পান না। মানুষের এই দৈনন্দিন চাহিদার কথা চিন্তা করেই তিনি এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড়া সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিচালিত এই কাজ নগরবাসীকে অভিভূত করেছে।

রাজিব শাহের এই অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত প্রমাণ করে যে, কেবল সদিচ্ছা, কঠোর পরিশ্রম ও আন্তরিকতা থাকলে যান্ত্রিক জীবনের মাঝেও প্রকৃতির সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে মানবিকতার এক অনন্য মেলবন্ধন রচনা করা যায়, যা সমাজের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক।

#কৃষি #ঢাকা #সোহরাওয়ার্দী_উদ্যান #মানবিকতা