ডিএনডি বাঁধ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত: পানিবদ্ধতা দূরীকরণে সরকারের পদক্ষেপ
রাজধানীর ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার দীর্ঘদিনের জটিল পানিবদ্ধতা সমস্যা নিরসন এবং বাঁধের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা জোরদার করার লক্ষ্যে এক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অংশ নেন।
উন্নয়ন প্রকল্প পর্যালোচনা ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা
বৈঠকে মূলত ডিএনডি প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি, চলমান নিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ লাঘবে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে পরস্পরের সাথে সমন্বয় রেখে দ্রুত ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করার জন্য কঠোর দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। ডিএনডি বাঁধ এলাকার অবকাঠামোগত সংস্কার প্রকল্পগুলোকে আরও কার্যকর এবং গতিশীল করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়, যাতে দীর্ঘমেয়াদী জনদুর্ভোগ স্থায়ীভাবে দূর করা সম্ভব হয়।
উক্ত বৈঠকে মন্ত্রী এবং প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তারা তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের গৃহীত পদক্ষেপ ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সভার সামনে তুলে ধরেন। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এই এলাকার অবকাঠামোগত মানোন্নয়নে স্থানীয় সরকারের ভূমিকার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
নগর সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ
প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় নগর কাঠামোর সাথে এর সামঞ্জস্য রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালনের আশ্বাস দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম। পাশাপাশ নগর পরিকল্পনার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম বাঁধ সংলগ্ন এলাকার ভূমি ব্যবহার ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
উপস্থিত প্রতিনিধিরা একমত পোষণ করেন যে, ডিএনডি বাঁধ এলাকার জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এবং এলাকাটিকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে অবিলম্বে নিষ্কাশন খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সকল কাজ সম্পন্ন করতে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করার প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়।
জনদুর্ভোগ নিরসনে সর্বাত্মক অগ্রাধিকার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, জনগণের নিরাপত্তা এবং নাগরিক সুবিধা জোরদার করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। ডিএনডি এলাকার কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে কোন প্রকার অবহেলা সহ্য করা হবে না। প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য তিনি নির্দেশ জারি করেন। একই সাথে কাজের গতি বাড়াতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন এবং প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার ব্যাপারে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা এই অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
#ডিএনডি_বাঁধ #বাংলাদেশ #উন্নয়ন_প্রকল্প #সংবাদ