স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আলটিমেটাম

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক একটি নোটিশকে সম্পূর্ণ ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। চিকিৎসকদের এই সংগঠনটি স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সংকট নিরসন এবং চিকিৎসকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। একই সঙ্গে এসব দাবি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মেনে নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে কঠোর আলটিমেটাম দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সারাদেশে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তারা চরম হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে।

নোটিশ বাতিল ও নিরাপত্তা আইনের দাবি

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গত ১৯ মে এফসিপিএস প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত যে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, তা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং এ বিষয়ে দ্রুত নতুন সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করতে হবে। একই সঙ্গে কর্মস্থলে চিকিৎসকদের সার্বিক সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। তারা অবিলম্বে ‘স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন করার দাবি জানান। এছাড়া উক্ত আইনের সঠিক বাস্তবায়নে গঠিত দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-এর আওতায় হামলাকারীদের শাস্তি ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

ভাতা বৃদ্ধি ও নতুন বেতন কাঠামোর আহ্বান

সংগঠনের অন্যতম প্রধান দাবি হলো ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বর্তমান মাসিক ভাতা বৃদ্ধি করে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা। সরকারি ও বেসরকারি সকল চিকিৎসকদের জীবনযাত্রার মান ও পরিশ্রমের মূল্যায়নে সঠিক অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতি তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকদের বর্তমান বেতন স্কেল সরকারি নবম গ্রেডের সমপর্যায়ে উন্নীত করার দাবি জানানো হয়। দেশের বেসরকারি খাত ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য একটি নির্দিষ্ট, সুসংগঠিত এবং বৈষম্যহীন বেতন কাঠামো দ্রুত প্রণয়ন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আইন প্রণয়ন, বয়সসীমা ও অন্যান্য সংস্কার প্রস্তাব

চিকিৎসকদের পেশাগত মান উন্নয়নের জন্য বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসে প্রবেশের সাধারণ বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩৪ বছর করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি চিকিৎসা ক্ষেত্রে ভুয়া ও অবৈধ চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে বিএমডিসি ২০২৫ অধ্যাদেশকে চূড়ান্ত আইনে পরিণত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে স্নাতকোত্তর চিকিৎসা শিক্ষার পথ সহজ করার লক্ষ্যে বিসিপিএস এবং বিভিন্ন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফি সর্বোচ্চ এক হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনটি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, চিকিৎসক সমাজের স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার মানোন্নয়নের জন্য এই ৬ দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসা ব্যবস্থার সার্বিক অগ্রগতি ও তরুণ চিকিৎসকদের সঠিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে সরকার দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

#স্বাস্থ্যসেবা #চিকিৎসক #চট্টগ্রাম #সংবাদ