বিদ্যুৎ বিতরণে শহর ও গ্রামের চরম বৈষম্য দূর করার জোর দাবি
দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার জোর দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সেবা নিয়ে সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করে এমন তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। সম্প্রতি আয়োজিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের গণশুনানিতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যেসব গ্রাহকের ওপর বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপানোর কথা বলা হচ্ছে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার সেই গ্রাহকরা নিয়মিত বিদ্যুৎই পাচ্ছেন না। দেশের অনেক এলাকায় মাত্র ১৫ মিনিট বিদ্যুৎ থাকার পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা তীব্র লোডশেডিং করা হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।
উৎপাদন ও সরবরাহের বাস্তব চিত্র ও ভোগান্তি
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, সম্প্রতি ঈদের আগের ও পরবর্তী সময়ে চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও মাতামুহুরী এলাকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে গ্রামীণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় চরম অব্যবস্থাপনার বাস্তব চিত্র দেখা গেছে। তাদের মূল দাবি হলো, জাতীয় গ্রিডে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও লোকালয়ের মানুষ দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন পর্যাপ্ত এবং লোডশেডিংয়ের কোনো প্রয়োজন নেই বলে দাবি করা হলেও বাস্তবে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীনতার ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ ধরনের চরম ভোগান্তির খবর প্রকাশিত হয়েছে। ঈদের ছুটিতে জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও গ্রামীণ এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ছিল মারাত্মক রূপ।
অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও স্থায়ী সংস্কারের আহ্বান
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন বিস্তৃত এলাকায় সামান্য বৃষ্টি বা ঝড় হলেই বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কয়েক দিন পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগে যায়। শতভাগ বিদ্যুতায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া সত্ত্বেও মানসম্মত ও আধুনিক অবকাঠামো গড়ে না ওঠায় গ্রাহকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে চূড়ান্তভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্তমানে দেশের শত শত উপজেলায় ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ কিলোমিটার বিতরণ লাইনের আওতায় কোটি কোটি গ্রাহককে সেবা দেওয়া হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ জনবল নিয়ে সংস্থাটি দেশের বড় অংশের বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্ব পালন করছে।
তবে অবকাঠামোগত দুর্বলতা, তীব্র জনবল সংকট, ব্যবস্থাপনাগত নানা সমস্যা এবং নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারের কারণে গ্রামীণ গ্রাহকরা বিদ্যুতায়নের পূর্ণ সুফল লাভ করতে পারছেন না। ফলে অবিলম্বে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার সংস্কার, গ্রাম ও শহরের বৈষম্য দূরীকরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন জরুরি হয়ে পড়েছে। “গ্রাহকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।”
#বিদ্যুৎ #বাংলাদেশ #ভোগান্তি #সংবাদ