জ্বালানি নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ মন্ত্রিপরিষদ উপকমিটি গঠন

বাংলাদেশ-এর সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করা এবং দেশের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামোর দ্রুত উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে সর্বমোট ৯ সদস্য বিশিষ্ট ‘জ্বালানি নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিপরিষদ উপকমিটি’ আনুষ্ঠানিক অবকাঠামোয় গঠন করা হয়েছে। সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্প্রতি এই সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীকে সরাসরি এই নবগঠিত শক্তিশালী কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

কমিটির অবকাঠামো, উচ্চপর্যায়ের সদস্যপদ ও সাচিবিক দায়িত্ব

নতুন গঠিত এই ৯ সদস্যের বিশেষ নীতি-নির্ধারণী কমিটিতে রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, সরকারি বিভাগ ও প্রধান সংস্থাগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধি ও নীতি-নির্ধারকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সম্মানিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত উপদেষ্টা এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা।

নীতি-নির্ধারকদের পাশাপাশি প্রশাসনিক গতিশীলতা বাড়াতে কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান, অর্থ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগের সম্মানিত সচিব এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে। প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনায় বিশেষভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, নতুন গঠিত এই কমিটির নিয়মিত নীতি-নির্ধারণী সভা সার্বিক প্রয়োজন অনুযায়ী সময়ে সময়ে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হবে। একই সাথে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এই উপকমিটিকে সকল ধরনের সার্বিক সাচিবিক সহায়তা ও প্রশাসনিক সেবা প্রদান করবে।

কমিটির কার্যপরিধি, ক্ষমতা এবং জাতীয় কৌশলগত লক্ষ্য

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত সুনির্দিষ্ট কার্যপরিধি অনুযায়ী, গঠিত বিশেষ উপকমিটি দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কাজে নিয়োজিত থাকবে। একই সাথে আন্তর্জাতিক ও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জরুরি ভিত্তিতে “এলপিজি আমদানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও গতিশীল করা”, ভূগর্ভস্থ গ্যাস সমৃদ্ধ এলাকা ভোলা থেকে দ্রুত ও নিরাপদ উপায়ে মূল ভূখণ্ডে গ্যাস পরিবহনের সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করা এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার ওপর বিশেষ অগ্রাধিকার দেবে।

তাছাড়া সমুদ্র উপকূলে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপন ও উন্নয়ন, সেই সাথে ভূমিভিত্তিক স্থায়ী এলএনজি ও এলপিজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাবনাগুলো দ্রুত ও নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার দায়িত্ব পালন করবে এই কমিটি। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এসব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য কমিটির প্রয়োজনীয় যাবতীয় সরকারি সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ গ্রহণের সরাসরি পূর্ণ অধিকার ও এখতিয়ার থাকবে।

বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণ ও সদস্য কো-অপ্ট করার বিশেষ সুযোগ

জাতীয় স্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও বেশি ফলপ্রসূ, স্বচ্ছ ও মানসম্মত করতে কমিটিকে বিস্তৃত ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুসারে, প্রয়োজন অনুযায়ী কমিটি যেকোনো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি দপ্তর, সংস্থাসমূহ, খাতভিত্তিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ প্রতিনিধিদের নিকট থেকে মতামত বা পরামর্শ গ্রহণ করতে পারবে। তাছাড়া কাজের পরিধি বিবেচনায় নিয়ে সুবিধাজনক সময়ে নতুন উপযুক্ত সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার বা কো-অপ্ট করার বিশেষ আইনগত ক্ষমতাও কমিটিকে প্রদান করা হয়েছে।

#জ্বালানি_নিরাপত্তা #বাংলাদেশ #এলএনজি #এলপিজি #অর্থনীতি