চট্টগ্রামে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে ব্যাপক বস্ত্র বিতরণ

মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপি-র প্রতিষ্ঠাতা ও বীর উত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালনের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগরীর সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা এক সুসংগঠিত মানবিক ও কল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেন। এই বিশেষ ঐতিহাসিক ও স্মৃতিময় দিবসটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মহান লক্ষ্য নিয়ে বিএনপি-র উদ্যোগে স্থানীয় পর্যায়ে সমাজের অসহায়, সম্বলহীন ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মাঝে ব্যাপক আকারে একটি বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি সুসম্পন্ন করা হয়েছে। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম-এর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী নসিমন ভবন সংলগ্ন দলীয় প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণে সোমবার দুপুরে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, ভাবগাম্ভীর্যময় ও আবেগঘন পরিবেশে এই সহানুভূতিশীল কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত স্মরণসভা ও সাহায্য প্রদান অনুষ্ঠানে স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের সাধারণ জনতা বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে অংশ নেন।

মহান নেতার স্মৃতিচারণ ও দূরদর্শী রাজনৈতিক দর্শন

মানবিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্যমণ্ডিত এই বিশাল সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর দলীয় সংগঠনের আহ্বায়ক ও সম্মানিত সংসদ সদস্য। সমগ্র অনুষ্ঠানটির সার্বিক পরিচালনায় এবং নিখুঁত সঞ্চালনায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন মহানগর সংগঠনের সদস্য সচিব। প্রারম্ভিক পর্বে দলীয় নেতৃবৃন্দ মরহুম নেতার স্মৃতি ও অবদানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে বলা হয়, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন অনন্য কর্মনিষ্ঠা, পরম সততা, গভীর দেশপ্রেম, নির্ভীক সাহসিকতা এবং সুদূরপ্রসারী ও দূরদর্শী নেতৃত্বের এক ভাস্বর প্রতীক।” তিনি দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের রূপকার হিসেবে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন।

সমাবেশে সমবেত বক্তারা বিস্তারিত আলোচনায় উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, সার্বভৌমত্ব প্রতিরক্ষা এবং একটি স্বনির্ভর জাতীয় পরিচয় নির্মাণে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ঐতিহাসিক ও চিরভাস্বর। দেশে একটি শক্তিশালী ও উৎপাদনমুখী জাতীয় অর্থনীতি গড়ে তোলা, প্রত্যন্ত গ্রামীণ অবকাঠামোর বহুমুখী ও ত্বরান্বিত উন্নয়নসাধন, ক্ষমতার যথাযথ বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিতকরণ এবং তৃণমূল পর্যায়ের আপামর জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর যুগান্তকারী ও দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন পদক্ষেপসমূহ বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাসের পাতায় এক চিরন্তন ও অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। দেশের প্রতিটি কঠিন, অন্ধকার ও সংকটময় সন্ধিক্ষণে তিনি জাতিকে নির্ভুল ও আলোকময় দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। একটি আত্মমর্যাদাশীল, আধুনিক ও স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ার যে উজ্জ্বল স্বপ্ন তিনি দেশের মানুষকে দেখিয়েছিলেন, তা আজও জাতির হৃদয়ে একইভাবে চিরপ্রাসঙ্গিক, অনুপ্রেরণাদায়ক ও দিকনির্দেশক হিসেবে আলো ছড়াচ্ছে।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ধারাবাহিকতা

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রবীণ জাতীয়তাবাদী নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট ভাষায় আলোকপাত করেন যে, জিয়াউর রহমানের সমগ্র রাজনৈতিক দর্শন গড়ে উঠেছিল প্রজা বা সর্বসাধারণ কেন্দ্রিক সর্বাত্মক বিকাশ, গণতান্ত্রিক ধারার ধারাবাহিক প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে তা সুরক্ষার নীতির ওপর। তাঁরা স্মরণ করিয়ে দেন যে, একটি আপসহীন রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে বিএনপি প্রতিনিয়ত দেশের মেহনতী মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ, জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সর্বস্তরে সামাজিক ন্যায়বিচার কায়েমের সংগ্রামে সর্বদা সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব প্রদান করে এসেছে। অতীতের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আগামী দিনেও সমাজের সমস্ত নিপীড়িত, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পাশে সুদৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়ে সমস্ত প্রকার মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড বিস্তৃত ও জোরদার করার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

এই ঐতিহাসিক বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ও স্থানীয় চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির দায়িত্বশীল সদস্যবৃন্দ, জেলা ও থানা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাকর্মী এবং সমস্ত অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তৃতাপর্ব ও আলোচনা পর্ব সমাপ্তির পর আয়োজনের মূল অংশ হিসেবে সমাজের শতাধিক অসচ্ছল, অসহায় ও দুস্থ নারী-পুরুষের মাঝে নতুন নতুন বস্ত্র বিতরণ করা হয়। কর্মসূচির একদম শেষ পর্যায়ে শহীদ জিয়াউর রহমানের বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করে, সমগ্র দেশ ও জাতির অব্যাহত সমৃদ্ধি ও সার্বিক কল্যাণ প্রার্থনা করে এবং প্রিয় মাতৃভূমির গণতন্ত্রের সুগম ও শুভ অগ্রযাত্রা প্রত্যাশায় অত্যন্ত আকুল আবেগ ও ভক্তির সাথে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

#রাজনীতি #বাংলাদেশ #চট্টগ্রাম #বিএনপি #জনকল্যাণ #সংবাদ