বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নতুন নির্দেশনা: সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শপিংমল ও দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশজুড়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে সরকার পুনরায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নতুন সরকারি নির্দেশনায় জানানো হয়েছে যে, দেশের সমস্ত শপিংমল, মার্কেট এবং কাঁচাবাজারসহ অপরাপর সব দোকানপাট আবার সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে আবশ্যিকভাবে বন্ধ করতে হবে। এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ আদেশ বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করে দেশের সকল সিটি করপোরেশনের মেয়র, প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের কাছে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। জাতীয় স্বার্থে শক্তি সম্পদ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এই কঠোর নির্দেশনাটি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ শেষ ও নতুন সময়সীমা কার্যকর

প্রকাশিত আদেশে উল্লেখ করা হয়, পূর্বেও দেশের প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শপিংমল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় একই সাথে সকল ধরনের বিলবোর্ডের আলোকসজ্জা বা বাতি সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার জন্য বাধ্যতামূলক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল। এছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ও আয়োজিত সব ধরনের বাণিজ্যমেলা, লোকজ মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও রাত বাড়ার আগেই অর্থাৎ সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শেষ করার নিয়ম জারি করা হয়েছিল।

তবে পবিত্র ঈদুল আজহা উৎসব উপলক্ষে জনসাধারণের কেনাকাটার সুবিধা এবং ব্যবসায়ীদের আর্থিক দিক বিবেচনা করে সাময়িকভাবে দোকানপাট খোলা রাখার এই সময়সীমা রাত ১০টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। ঈদ পরবর্তী সময়ে সরকারের দেওয়া সেই বিশেষ সুবিধার মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ায় ১ জুন থেকে পুনরায় পূর্বের মূল সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে শপিংমল ও কাঁচাবাজারগুলোকে রাত ১০টার পরিবর্তে বাধ্যতামূলকভাবে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই তাদের সমস্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রম শেষ করতে হবে। নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, কোনোভাবেই নির্ধারিত সময়ের পর কার্যক্রম চালানো যাবে না।

বিলবোর্ড, মেলা ও জাতীয় উৎসবের ওপর কড়া নজরদারি

বিদ্যুৎ ব্যবহারে সর্বাধিক সাশ্রয়ী আচরণ নিশ্চিত করার জন্য কেবল দোকানপাট নয়, বরং অন্যান্য উৎসগুলোতেও শক্তি অপচয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে, রাত ঘনিয়ে আসার আগেই অর্থাৎ সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে রাস্তার পাশে ও ভবনে থাকা সকল বিলবোর্ডের আলো সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। একই সাথে দেশের বিভিন্ন প্রান্তরে স্থানীয় উদ্যোগে অথবা সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত সকল মেলা, শিল্প ও বাণিজ্যমেলা এবং উন্মুক্ত স্থানের যেকোনো বিনোদনমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কঠোরভাবে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সমাপ্ত করতে হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ের সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন এই সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে কার্যকর হয়। স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ প্রশাসন নিয়মিত তদারকি চালিয়ে সরকারি আদেশ মেনে চলা নিশ্চিত করবে। আইন অমান্য করে নির্ধারিত সময়ের পর দোকান খোলা রাখা বা আলোকসজ্জা অব্যাহত রাখার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় এই উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

#জাতীয় #বিদ্যুৎসাশ্রয় #বাংলাদেশ #সংবাদ