তোফায়েল আহমেদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত: সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও বিদায়
ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে জানাজা শেষে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদের মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। সোমবার বাদ মাগরিব তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে নানা শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ এই বর্ষীয়ান নেতাকে শেষবিদায় জানাতে জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষণ করা হয়।
সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে জানাজা সম্পন্ন হলে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স স্কয়ার হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। এ সময় পুরো এলাকা জুড়ে উপস্থিত নেতাকর্মীরা “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগানে চারপাশ মুখরিত করে তোলেন। দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাম্বুলেন্স ঘিরে ধরে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা গভীর শ্রদ্ধা জানান। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বাধার মুখেও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের এই আবেগঘন পরিবেশ বজায় থাকে। এর আগে থেকেই বর্ষীয়ান এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের শেষশ্রদ্ধায় অংশ নিতে তাকওয়া মসজিদ প্রাঙ্গণে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। মরদেহের পাশে শুরু থেকেই উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
রাজনৈতিক নেতৃবংশের স্মৃতিচারণ ও জাতীয় রাজনীতিতে তোফায়েল আহমেদ
জানাজায় অংশগ্রহণ করেন আওয়ামী লীগ-এর সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ-এর চেয়ারম্যান কাদের সিদ্দিকী, সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী এবং জাতীয় পার্টি-র মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী সহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। জানাজা শেষে গণমাধ্যমের সামনে প্রবীণ এই রাজনৈতিকের স্মৃতিচারণ করে গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।
জাতীয় পার্টি-র মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, “তোফায়েল আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ। ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অবিস্মরণীয় অবদান কখনো ভোলার নয়।” তিনি অত্যন্ত সাহসী, দূরদর্শী এবং অসাধারণ একজন পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে জাতীয় সংসদে নিজের অসামান্য ভূমিকা রেখে গেছেন। নবীন সংসদ সদস্যদের সর্বদা উৎসাহ ও পরামর্শ দিতেন তিনি। সকল দলমত নির্বিশেষে দেশের রাজনীতিতে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা লালন করা উচিত।
তিনি আরও অভিমত ব্যক্ত করেন যে, জাতির এই মহান বীরের অন্তত একটি জানাজা জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে হওয়া উচিত ছিল। রাষ্ট্রীয়ভাবে এই ধরনের উদার ও সম্মানিত দৃষ্টান্ত স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে মনে করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ। তোফায়েল আহমেদের প্রয়াণে দেশ একজন উজ্জ্বল ও অভিজ্ঞ নক্ষত্রকে হারালো।
চূড়ান্ত বিদায় ও দাফনের পরিকল্পনা
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ বর্তমানে চিকিৎসাকেন্দ্রের হিমঘরে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তার মরদেহ সর্বসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা ও দ্বিতীয় জানাজার জন্য ভোলা জেলায় নিয়ে যাওয়া হবে। ভোলা জেলা সরকারি হাই স্কুল মাঠে তার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা আয়োজন করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
জানাজা শেষে এই বর্ষীয়ান বীর মুক্তিযোদ্ধাকে তার নিজ এলাকা ভোলার দক্ষিণ গঙ্গাপুর এলাকার কোরালিয়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে প্রিয় মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে প্রবীণ এই জননেতাকে। তার চিরবিদায়ে সমগ্র দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #তোফায়েল_আহমেদ #সংবাদ