দুধে আমদানিনির্ভরতা কমানোর তাগিদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর

বাংলাদেশে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের ক্রমবর্ধমান বিপুল চাহিদা পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন আশানুরূপ বৃদ্ধি করে আমদানিনির্ভরতা পুরোপুরি কমানোর উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে দুধ ও দুগ্ধজাত সামগ্রী রপ্তানির সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে সার্বিক উৎপাদন ব্যবস্থা প্রসারিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরণের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ঢাকা শহরের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ প্রাঙ্গণে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ ও বর্ণাঢ্য আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। চলতি বছরে এই বিশেষ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছিল ‘দুগ্ধ উৎপাদনে নারী খামারি: উন্নয়নের অগ্রযাত্রা’, যা মূলত দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের অমূল্য অবদান ও সম্ভাবনাকে সার্বিকভাবে তুলে ধরে।

নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন ও দক্ষতা উন্নয়ন

প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় অর্থনীতির মূল ধারাকে শক্তিশালী করা এবং দেশের প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করতে নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। দেশের নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও শক্তিশালী হলে সামগ্রিকভাবে পুরো বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও সুদৃঢ় ভিত্তি লাভ করবে। বর্তমানে দুগ্ধ খামার পরিচালনা সহ কৃষির নানা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নারীদের প্রত্যক্ষ ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বর্তমান সমাজের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, দুগ্ধ খাতে নারীদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ কেবল প্রশংসনীয়ই নয়, বরং তাদের কাজের দক্ষতা ও সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে আরও আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় কারিগরি জ্ঞান এবং আর্থিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা আবশ্যক। প্রান্তিক খামারিদের আসল চাহিদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, একজন উদ্যোক্তা সফল হলে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে দেশের অর্থনীতিও সমানভাবে উপকৃত হয়।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আরও বলেন, “করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই মূলনীতি ও প্রত্যয়কে হৃদয়ে ধারণ করে প্রাণিসম্পদ খাতের সার্বিক উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও খামারিকে গভীর দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যেতে হবে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাই অর্পিত দায়িত্ব সততার সঙ্গে যথাযথভাবে পালন করলে দেশকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া এবং একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সহজে সম্ভব হবে।

জনকল্যাণমূলক সামাজিক কর্মসূচি ও দপ্তর পরিদর্শন

অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে প্রতিমন্ত্রী প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে স্থানীয় এতিমখানা ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে পুষ্টিকর দুধ বিতরণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে সূচিত হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ খামারবাড়ি মোড় প্রদক্ষিণ করে অনুষ্ঠানস্থলে এসে সমাপ্ত হয়। এছাড়াও সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের মাঝে পুষ্টিকর দুধ পৌঁছে দিতে ভেটেরিনারি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে বিশেষ সামাজিক কর্মসূচি পালন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, গবেষক ও মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি কাজে গতিশীলতা ও সততার তাগিদ

দিনের অপরাহ্নে প্রতিমন্ত্রী কারওয়ান বাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন প্রধান কার্যালয় আকস্মিক পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন বিভাগের কাজ সরজমিনে প্রত্যক্ষ করেন এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, দাপ্তরিক কার্যক্রমে গতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও শতভাগ কার্যকারিতা আনয়ন করতে সততা, নিষ্ঠা ও গভীর পেশাদারত্বের বিকল্প নেই। বর্তমান সরকারের ওপর সাধারণ জনগণের অপরিসীম আস্থা ও প্রত্যাশা রয়েছে। তাই সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী আন্তরিকতার সাথে নিজেদের দায়িত্ব পালন করলে সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আরও বেশি সক্ষম হবে।

#অর্থনীতি #বাংলাদেশ #কৃষি #উন্নয়ন