ডানপন্থী ব্রিটিশ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাইলো ইয়ানোপোলোসকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট সংস্থার (আইস) হাতে আটক হওয়ার পর গত শুক্রবার তাঁকে যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই বহিষ্কারাদেশের মাধ্যমে ইয়ানোপোলোসকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা তাঁর দীর্ঘদিনের অভিবাসন-বিরোধী অবস্থানের সঙ্গে একটি বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে।

মার্কিন প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ইয়ানোপোলোস ২০১৯ সালের মে মাসে একটি অস্থায়ী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তবে এরপর তিনি দেশের আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে সেখানে অবস্থান করছিলেন। গত ২৭ আগস্ট নিউ অরলিন্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে তাঁর নিজ দেশ যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

অভিবাসন নীতি নিয়ে ইয়ানোপোলোসের অবস্থান

মাইলো ইয়ানোপোলোস দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার একজন কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে কোটি কোটি অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কারের পক্ষে জোরালোভাবে সাফাই গেয়ে আসছিলেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় ছিলেন এবং সেখানে তাঁর অভিবাসন-বিরোধী মতামত প্রকাশ করতেন।

মজার বিষয় হলো, এর আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন যে, যাঁরা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারবেন না, তাঁদের অনতিবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র থেকেই বহিষ্কার করা উচিত। এই মন্তব্য তাঁর নিজের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে একটি উল্লেখযোগ্য বৈপরীত্য তৈরি করেছে। এমনকি গত বছর তিনি অভিবাসন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় সব ধরনের আইনি দায়মুক্তি দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন।

‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে চিহ্নিতকরণ

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একজন মুখপাত্র বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মাইলো ইয়ানোপোলোসকে ‘একজন অবৈধ অভিবাসী’ বলে উল্লেখ করেন। এই বিবৃতিতে আরও জানানো হয় যে, তাঁকে তাঁর নিজ দেশ যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সমালোচকেরা মাইলো ইয়ানোপোলোসকে ঘৃণা ছড়ানোর অন্যতম কারিগর হিসেবে অভিহিত করে থাকেন।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও মতাদর্শ

মাইলো ইয়ানোপোলোস ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন গোঁড়া সমর্থক ছিলেন। সেই সময়ে তিনি ট্রাম্পের পক্ষে প্রচারণায় একটি বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তিত হয় এবং তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের একজন তীব্র সমালোচকে পরিণত হন।

চলতি বছরের মার্চ মাসে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তিনি দাবি করেন যে, ট্রাম্প তাঁর পথ হারিয়েছেন এবং বিদেশি স্বার্থের কাছে বিক্রি হয়ে গেছেন। যদিও তিনি ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করেছেন, তবে তাঁর উগ্র ডানপন্থী পদক্ষেপগুলো তিনি এখনো সমর্থন করেন বলে জানা যায়। এই বহিষ্কারাদেশ মাইলো ইয়ানোপোলোসের কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে তাঁর নিজের অভিবাসন-বিরোধী অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে।