জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সততা, স্বচ্ছতা ও সমন্বিত কাজের তাগিদ
ঢাকা-য় অনুষ্ঠিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, সাধারণ জনগণের কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে প্রশাসনিক দায়িত্বে দায়িত্বশীলতা, সততা, নিষ্ঠা এবং সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনার কোনো বিকল্প নেই। সরকার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা, নিবিড় জবাবদিহিতা এবং সুশাসনের যথাযথ চর্চার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক ও স্থায়ী পরিবর্তন আনা পুরোপুরি সম্ভব। সরকারি সেবার মান বৃদ্ধি এবং নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সকল উন্নয়ন উদ্যোগে সততার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
সম্প্রতি বিকেল বেলা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত ঈদ-পরবর্তী এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব দিকনির্দেশনামূলক কথা ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, সরকারি প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করে থাকেন। জাতীয় সিদ্ধান্তসমূহ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন, সঠিক নীতিনির্ধারণ এবং জনগণের সেবার মান উত্তরোত্তর উন্নয়নে তাদের অবদান ও ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ ও অনাবশ্যক ব্যয় হ্রাস
মন্ত্রী তার দীর্ঘ বক্তব্যে বলেন, দেশের প্রতিটি ব্যক্তি যদি নিজ নিজ স্থান থেকে সম্পূর্ণ সৎ ও অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন, তবে তার ইতিবাচক ও শুভ প্রভাব কাজের সুষম পরিবেশ এবং সামগ্রিক সমাজের ওপর গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়। দেশের সরকারপ্রধান সমগ্র দেশের সার্বিক কার্যক্রম ও পরিস্থিতি সম্পর্কে সার্বক্ষণিক অবহিত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের ক্ষেত্রে পরম স্বচ্ছতা, নিরবচ্ছিন্ন জবাবদিহিতা ও দৃঢ় নিষ্ঠার কোনো বিকল্প হতে পারে না। কার্যকর নীতিনির্ধারণ এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই সরকারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার প্রশাসনিক সকল কার্যক্রমে অযৌক্তিক ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বহুল পরিমাণে হ্রাস করা, উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সময়োপযোগী কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করছে। সম্প্রতি বিভিন্ন চলমান ও প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনার মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমানোর যে প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, সে বিষয়টিও মন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষা
উক্ত সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র ও অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সততার ভিত্তিতে কাজ করে যেতে হবে। রাষ্ট্রীয় কাজে কোনো ধরনের অবহেলা, গাফিলতি কিংবা শৈথিল্যের সুযোগ নেই। সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করাই সরকারি সেবকদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
তিনি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “রাষ্ট্রের কোনো ধরনের আর্থিক কিংবা প্রশাসনিক ক্ষতি সাধিত হতে পারে- এমন কোনো অকল্যাণকর কর্মকাণ্ডের সাথে কোনো কর্মকর্তা যেন কখনোই কোনোভাবে সম্পৃক্ত না হন।” প্রতিটি পদক্ষেপ যেন দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত থাকে, সে বিষয়ে তিনি জোর তাগিদ জানান।
একই সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন বলেন, সরকারি অর্থ ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ কিংবা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিদেশি সহায়তা গ্রহণ ও তা সফল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সামান্য অবহেলারও কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। তিনি সকল কর্মকর্তাদের শতভাগ স্বচ্ছতা, দৃঢ়তা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালনের উদাত্ত আহ্বান জানান। সভার সমাপনীতে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
#বাংলাদেশ #প্রশাসন #কৃষি #সুশাসন #উন্নয়ন