পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ: জামায়াতের তীব্র প্রতিবাদ

দেশের ১১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কঠোর সমালোচনা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, মেধা, যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার তোয়াক্কা না করে কেবল দলীয় আনুগত্য এবং রাজনৈতিক বিবেচনাকে প্রাধান্য দিয়ে এই নিয়োগগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে, যা দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক ও আশঙ্কাজনক।

দলীয় আনুগত্য ও অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিস্তার

জামায়াতে ইসলামী-র অন্যতম শীর্ষ নেতা ও সেক্রেটারি জেনারেল এক সরকারি বিবৃতিতে জানান যে, সাধারণ জনগণ বিশ্বাস করে এই পদায়নসমূহে একাডেমিক যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়কেই প্রধান মানদণ্ড ধরা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে দলীয়করণের এই নতিদীর্ঘ সংস্কৃতি চালু রাখা গোটা জাতির জন্য একটি মারাত্মক অশুভ সংকেত।

বিবৃতিতে আরও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, ইতিপূর্বে দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে অনির্বাচিত প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সে সময়ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় স্বৈরাচারী ও দলীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়। বর্তমানে সরকার সেই একই অগণতান্ত্রিক ধারাকে বিস্তৃত করে উচ্চশিক্ষার প্রধান কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োগ করছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।

শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা ও একাডেমিক পরিবেশ বিনষ্টের আশঙ্কা

রাজনৈতিক দলটির মতে, বিশ্ববিদ্যালয় হলো মুক্তবুদ্ধির চর্চা, জ্ঞান অন্বেষণ ও স্বাবলম্বী গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র। সেখানে প্রশাসনিক শীর্ষ পদে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হলে শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। এর ফলে শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়, স্বজনপ্রীতি বৃদ্ধি পায় এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনার পরিবেশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। 과거 দলীয়করণের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, এর ফলে দেশে দীর্ঘ সেশনজট, সহিংসতা ও চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল, যা জনগণ আর কোনোভাবেই দেখতে চায় না।

ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের পর সাধারণ মানুষের প্রধান প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশ-এ একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনের সিদ্ধান্তসমূহ প্রমাণ করছে যে তারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় একক দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পুরাতন পথেই হাঁটছে। এটি দেশের শিক্ষা, গণতন্ত্র এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর চরম আঘাত হানছে।

স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ ও নিয়োগ পুনর্বিবেচনার দাবি

বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, ভিসি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা, একাডেমিক উৎকর্ষ এবং সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া উচিত ছিল। অথচ সেই পথ পরিহার করে একটি পক্ষপাতদুষ্ট পন্থা অনুসরণ করা হয়েছে। অতএব, এই অগণতান্ত্রিক নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল ও পুনর্বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্বে নিরপেক্ষ, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য শিক্ষাবিদদের নিয়োগ দেওয়ার জোরালো দাবি জানানো হচ্ছে।

#রাজনীতি #শিক্ষা #বাংলাদেশ #বিশ্ববিদ্যালয়