রাঙ্গামাটিতে গণঅধিকার পরিষদে নানা দলের নেতাদের যোগদান

রাঙ্গামাটি জেলায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে গণঅধিকার পরিষদ-এ যোগদান করার যৌথ ঘোষণা দিয়েছেন। এই বিশেষ রাজনৈতিক পরিবর্তন উপলক্ষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে দলটির কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিতি থেকে নতুন যোগদানকারীদের স্বাগত জানান। নতুন এই রাজনৈতিক মেরুকরণ পাহাড়ি অঞ্চলে সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধি করবে বলে নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

যোগদানকারী নেতাদের পরিচয় ও সাংগঠনিক প্রভাব

নতুন করে যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র রাঙ্গামাটি জেলা শাখার আহ্বায়ক বিপিন যথী চাকমা, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি-র যুব আন্দোলনের সভাপতি পলাশ চাকমা, সাংগঠনিক সম্পাদক চীরজিৎ চাকমা, দপ্তর সম্পাদক সাগর চাকমা, এবং প্রচার সম্পাদক অভিলাস চাকমা। এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা জলমনি চাকমা এবং এলডিপি নেতা কামালসহ বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

সংগঠন সূত্রে জানানো হয়েছে, এই সভায় উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন দলটির উচ্চতর পরিষদের প্রতিনিধি আবু হানিফ এবং সাকিব হোসাইন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক লোকমান হোসেন, পার্বত্য জেলা শাখার সাবেক সংগঠক আবুল বাশার, ওয়াহিদুজ্জামান রোমানসহ অঙ্গ-সংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদ-এর কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সভায় বক্তব্য রাখেন।

রাজনীতি, সম্প্রীতি ও পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার

সংগঠনের নীতিনির্ধারক আবু হানিফ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, “গণঅধিকার পরিষদের রাজনীতির দ্বার দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সর্বদা উন্মুক্ত, তবে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির এই দলে ঠাঁই হবে না।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সমতল ও পার্বত্য এলাকার মানুষের মূল অধিকার নিশ্চিত করা এবং জনগণের অধিকার বাস্তবায়ন করাই তাদের রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে তিনি জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানান।

ঐক্য ও রাজনৈতিক সমঝোতার নতুন পথ

উচ্চতর পরিষদের সদস্য সাকিব হোসাইন বলেন, অতীতে বিএনপি-র সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম অব্যাহত রাখা হবে। অন্যদিকে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক লোকমান হোসেন উল্লেখ করেন, সর্বস্তরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

#রাজনীতি #রাঙ্গামাটি #গণঅধিকারপরিষদ #বাংলাদেশ