সীমান্ত হত্যা ও আন্তর্জাতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
ভারতে মুসলিম নির্যাতন এবং সীমান্ত হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা শহরে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানী বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অতিক্রম করে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এই বিক্ষোভে রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন। আয়োজকরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, প্রতিবেশী দেশের যেকোনো অমানবিক কর্মকাণ্ড ও আধিপত্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে জনগণ রুখে দাঁড়াতে প্রস্তুত। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এই সমাবেশের মূল লক্ষ্য।
সীমান্তে বিএসএফের আগ্রাসন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন
মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষপ্তি সমাবেশে খেলাফত মজলিস-এর মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের এক বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সীমান্তে নির্দোষ বাংলাদেশি নাগরিকদের একের পর এক গুলি করে হত্যা করা চরম অন্যায়।” তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বজনীন মানবাধিকারের বিধান লঙ্ঘন করে চলেছে। কিছুদিন বন্ধ থাকার পর সীমান্ত হত্যা নতুন করে শুরু করার উদ্দেশ্য হলো দেশের নাগরিকদের মধ্যে অহেতুক ভয় সৃষ্টি করা। এছাড়া সীমান্তে অবৈধ মাদক চোরাচালান ও পুশইনের মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি অশান্ত পরিবেশ তৈরির চক্রান্ত চলছে।
সংগঠনটি স্পষ্ট দাবি জানায় যে, ভারতকে অনতিবিলম্বে সকল ধরনের সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে হবে এবং এ পর্যন্ত যত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তার উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরে বসবাসকারী সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নানা অজুহাতে নির্যাতন ও নিপীড়ন বন্ধের ওপর জোর দেওয়া হয়। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারতের উচিত বাংলাদেশের সঙ্গে সমান মর্যাদার ভিত্তিতে প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক গড়ে তোলা, কখনোই কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়।
কূটনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা ও সরকারের দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন
বক্তব্যে ড. কাদের সাম্প্রতিক সীমান্ত পরিস্থিতির একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত কয়েকদিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লালমনিরহাট সীমান্তে কয়েকজন নিরপরাধ বাংলাদেশিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, এই ভয়াবহ ঘটনার পর উপযুক্ত কৈফিয়ত ও তীব্র প্রতিবাদ জানানোর জন্য ঢাকায় অবস্থানরত ভারতীয় হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখনো তলব করা হয়নি। সরকারের এরূপ নীরবতা জনগণকে হতাশ করেছে। তাই দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনতিবিলম্বে কার্যকর diplomatic পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলি বর্বরতা ও প্রবাসীদের নিরাপত্তা
বিক্ষোভ সমাবেশে কেবল প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত সংকট নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অব্যাহত সহিংসতার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে দখলদার ইসরায়েল বাহিনীর হামলা ও ক্রমাগত অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির তীব্র নিন্দা জানানো হয়। ফিলিস্তিন সহ অন্যান্য দেশে হাজার হাজার নিরীহ মানুষের প্রাণহানি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় একটি লজ্জা। সম্প্রতি লেবানন এলাকায় ড্রোন হামলায় সাধারণ শ্রমজীবী প্রবাসী বাংলাদেশিদের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। প্রবাসীরা যেখানে কঠোর পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতি সচল রাখছেন, সেখানে তাদের জীবন সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত করতে সরকারের তরফ থেকে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক তৎপরতা ও দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের জোরালো আহ্বান জানায় দলটি।
#রাজনীতি #বাংলাদেশ #সীমান্তহত্যা #প্রতিবাদ