স্বাস্থ্য খাতে অবহেলা ও শিক্ষার সংকট নিয়ে শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিবাদ

জাতীয় প্রেস ক্লাব-এর সামনে আয়োজিত এক ছাত্র সমাবেশে বক্তারা সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতা ও শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সংকট তুলে ধরে কড়া সমালোচনা করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, দেশে উপযুক্ত তদারকি ও স্বাস্থ্য সেবায় চরম অবহেলার কারণে ভিটামিন-এ এবং হামের টিকা দেওয়ায় চার শতাধিক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে গেলেও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছে, যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। সমাবেশটি সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট ও অধিকার আদায়ের সংগ্রাম

সংগঠনটির নেতারা জানান, তাদের প্রতিষ্ঠার সূচনা লগ্ন থেকেই তারা সর্বজনীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, সেক্যুলার, বৈষম্যহীন ও একই ধারার শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলন পরিচালনা করে আসছে। “শিক্ষা কোনো বাণিজ্যিক পণ্য নয়, বরং এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার,” উল্লেখ করে তারা বলেন যে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ এবং ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। তবে দুঃখজনকভাবে দেশে বারবার শাসনের পরিবর্তন ঘটলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভাগ্য বদলায়নি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য কমার বদলে সংকট জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বক্তারা আরও বলেন, অতীতে দায়িত্ব পালনকারী বিভিন্ন সরকার শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ না বাড়িয়ে বরং বেসরকারি শিক্ষাকে মূলধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চক্রান্তে লিপ্ত ছিল। এর ফলে উচ্চশিক্ষা সংকুচিত হচ্ছে এবং উদাহরণস্বরূপ ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আসন উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা হয়েছে। এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অধিকারকে চরমভাবে ব্যাহত করছে।

ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি ও বিরাজনীতিকরণের ষড়যন্ত্র

গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাসের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। তবে সমাবেশ থেকে অভিযোগ করা হয়, একটি নির্দিষ্ট মৌলবাদী ছাত্র সংগঠন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানার ও পরিচয় ব্যবহার করে তাদের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করছে। তারা ক্যাম্পাসে একটি বিরাজনীতিকরণের অপসংস্কৃতি তৈরি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিরাজনীতি ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি সুস্থ, আদর্শবাদী এবং প্রগতিশীল ছাত্ররাজনীতি গড়ে তোলার জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ

সমাবেশে বক্তারা জাতীয় স্বার্থ ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে আমেরিকার সঙ্গে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত অসম, বৈষম্যমূলক ও অন্যায্য চুক্তি অবিলম্বে বাতিলের জোর দাবি জানান। সমাবেশ শেষে শিক্ষার অধিকার ও বিভিন্ন দাবিসংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন এবং লাল পতাকা নিয়ে একটি সুসংগঠিত বর্ণাঢ্য মিছিল পল্টন মোড় এলাকায় গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে নবনির্বাচিত ১৪ সদস্যের নতুন কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটির নেতৃবৃন্দকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

#শিক্ষা_আন্দোলন #বাংলাদেশ #স্বাস্থ্য_সংকট #ছাত্র_রাজনীতি