অসুস্থ শিশুর চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন ডা. জুবাইদা রহমান

মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছয় মাসের শিশু নূর নাহারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডা. জুবাইদা রহমান। সম্প্রতি গণমাধ্যমে অর্থাভাবে চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি শিশুটির সামগ্রিক চিকিৎসার দায়িত্ব নেন এবং পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সব সহায়তার নির্দেশ প্রদান করেন। অসুস্থ এই শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে তদারকির জন্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমরা বিএনপি পরিবার-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালে প্রতিনিধি দলের সফর ও সহায়তা আশ্বাস

এরই অংশ হিসেবে রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে শিশুটির চিকিৎসাসংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য জানতে প্রতিনিধি দল সফর করে। আমরা বিএনপি পরিবার-এর প্রতিনিধি দল শিশুটির মা স্বর্ণা আক্তারের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং চিকিৎসার সার্বিক দায়িত্ব বহন করার আশ্বাস প্রদান করেন। প্রতিনিধি দল স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে “অসহায় শিশুটির সুচিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।” অর্থাভাব যাতে চিকিৎসার পথে বাঁধা হতে না পারে, সে ব্যাপারে সার্বক্ষণিক খেয়াল রাখা হচ্ছে।

এসময় উপস্থিত নেতারা উল্লেখ করেন যে, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও আর্থিক সমস্যায় থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি নৈতিক দায়িত্ব। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, শিশুটির ওষুধ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক খরচের কোনো অভাব হতে দেওয়া হবে না। তারা চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলে চিকিৎসাসেবার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন।

শিশুটির শারীরিক জটিলতা ও পারিবারিক সংকট

কেরানীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা স্বর্ণা আক্তারের ছয় মাস বয়সী কন্যাসন্তান নূর নাহার বেশ কিছুদিন ধরে জটিল রোগে ভুগছে। শিশুটি হাম এবং তীব্র নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি হয়। টানা জ্বর, ঠান্ডা, কাশি ও চরম শ্বাসকষ্টের কারণে শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী একটি ছয় মাস বয়সী শিশুর ওজন সাত থেকে নয় কেজি হওয়ার কথা থাকলেও, চরম পুষ্টিহীনতা ও অসুস্থতার কারণে তার ওজন কমে মাত্র তিন কেজিতে নেমে আসে, যা চিকিৎসকদের অত্যন্ত চিন্তিত করে তোলে।

পরিবারটির আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় শিশুটির চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া মায়ের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। অর্থাভাবে এবং পারিবারিক কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় একা মা স্বর্ণা আক্তার চরম মানসিক সংকটে পড়েন। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে টাকা ধার করে তিনি অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। পরিস্থিতি এতোটাই সংকটময় ছিল যে প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকেও তাকে ফেরত যেতে হয়েছিল।

মানবিক উদ্যোগ ও নতুন আশা

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে শিশুটির করুণ পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ডা. জুবাইদা রহমানের এই সরাসরি তদারকি ও সামাজিক সংগঠনের তাত্পক্ষণিক সহযোগিতার ফলে অসহায় মা নতুন আশা খুঁজে পেয়েছেন। হাসপাতালে এখন শিশুটি প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও নিয়মিত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি সাধনে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

#চিকিৎসা #মানবিকতা #স্বাস্থ্য #বাংলাদেশ