নির্বাচন কমিশনে জামায়াতের নির্বাচনি ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব জমা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের দলীয় নির্বাচনি ব্যয়ের আনুষ্ঠানিক হিসাব বিবরণী নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জাতীয় নির্বাচন পরিচালনায় মোট প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। কমিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে এই আনুমানিক খরচের পূর্ণাঙ্গ বিবরণী হস্তান্তর করা হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এই হিসাব জমা দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রার্থীদের অনুদান ও নির্বাচনী তহবিলের ব্যবহার
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী মোট ব্যয়ের একটি বড় অংশ সরাসরি দলীয় প্রার্থীদের অনুদান হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া মোট ২২৫ জন প্রার্থীকে দলীয় তহবিল থেকে সার্বিক সহায়তা করা হয়। প্রতি প্রার্থীর অনুকূলে প্রায় দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান বরাদ্দ দেওয়া হয়, যার সর্বমোট পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় ৪ কোটি টাকায়। বাকি টাকা দলীয় কেন্দ্র থেকে পরিচালনা করা নানা সার্বিক কার্যক্রম ও প্রচারণায় ব্যয় করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
নির্বাচনি হিসাবের নথিপত্রে সই করেছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব। এতে দেখা যায়, নির্বাচনে দলটির মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭২ টাকা। প্রার্থীদের সরাসরি অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইশতেহার তৈরি, প্রচারাভিযান এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক খাতে নির্দিষ্ট অর্থ ব্যয় করা হয়। “নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই আমরা প্রতিটি খাতের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য প্রদান করেছি,” বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
খাতভিত্তিক ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট বিবরণী
কমিশনে জমা দেওয়া বিবরণীতে দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন খাতের খরচের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচনি ইশতেহারের অনন্য ডিজাইন, বাঁধাই ও ছাপার খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন, আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়ন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচনি সামগ্রী পরিবহন এবং কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের দলীয় সফর পরিচালনা করতে গিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছে। এছাড়া আইসিসিসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের খরচও বিবরণীতে যুক্ত করা হয়।
প্রচারণা ও প্রশাসনিক ব্যয়ের বিস্তারিত
নথিতে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, কেবল সরাসরি নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যয় হয়েছে ২০ লাখ ৯০ হাজার ৮২৭ টাকা। পরিবহন সংক্রান্ত খরচ দেখানো হয়েছে ৮ হাজার ৭০০ টাকা। সারাদেশে বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত বিশাল জনসভা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সফর পরিচালনা বাবদ ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৫৯৯ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচনকালীন অস্থায়ী স্টাফদের পেছনে খরচ হয়েছে ২ লাখ ৮৫ হাজার ৯০২ টাকা এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আবাসন ও প্রশাসনিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪৪ টাকা। এর বাইরে জরুরি ও বিবিধ খরচ হিসেবে আরও ২ লাখ টাকার হিসাব উপস্থাপন করা হয়েছে।
জাতীয় রাজনীতির সার্বিক প্রেক্ষাপটে দলটির এই নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ঢাকা শহরের প্রধান কার্যালয় থেকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে গিয়ে প্রতিনিধি দল এই হিসাব প্রদান নিশ্চিত করে। গণতান্ত্রিক চর্চা সুসংহত করতে ও অর্থায়নে নিয়ম মেনে চলতে এই পদক্ষেপে ইতিবাচক বার্তা রয়েছে।
#রাজনীতি #নির্বাচন #বাংলাদেশ #সংবাদ